সর্বনাশ করে ফেলেছে, লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েকে বিষ খাওয়ালেন মা!

Spread the news

১২ মার্চ : লোকলজ্জার ভয় আর অন্য ধর্মে প্রেম। এই ছিল ভুল। এর জেরে নিজের মেয়েকেই বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগ উঠল মা ও দাদার বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের ফতেপুর জেলায় ঘটেছে। সত্য সামনে আসতেই শিউরে উঠছে প্রতিবেশী থেকে পুলিশ- সকলেই। ১৯ বছরের তরুণী ফারজানার মৃত্যুকে প্রথমে তাঁর প্রেমিকের কীর্তি বলে চালানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন মা আফসানা ও দাদা আফসার।

পুলিশ জানিয়েছে, গত বছর অক্টোবর মাসে সামাজিক মাধ্যমে সুনীল যাদব নামে এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় গাজিপুরের বাসিন্দা ফারজানার। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুনীল তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। ফারজানা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গোলমাল শুরু হয়। অভিযোগ, বিয়ের কথা অস্বীকার করে গত আড়াই মাস আগে তরুণীর গর্ভপাত করান সুনীল। এর পরই ফারজানার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। গোটা বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায় তাঁর বাড়িতে।

মেয়ের গর্ভবতী হওয়ার খবর পেয়ে মা ও দাদা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। কয়েক দিন সুনীলের আশ্রয়ে থাকার পর, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ফতেপুর রেল স্টেশন থেকে অচেতন অবস্থায় ফারজানাকে উদ্ধার করে পুলিশ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন ফারজানা বয়ান দেন যে, সুনীলই তাঁকে ভুল বুঝিয়ে গর্ভপাত করিয়ে স্টেশনে ফেলে রেখে গিয়েছেন।

তদন্তকারীদের দাবি, গত ১ মার্চ রাতে যখন পুলিশি প্রক্রিয়া ও ডাক্তারি পরীক্ষা হওয়ার কথা, তখনই পরিবারের সদস্যরা ফারজানাকে এক প্রকার জোর করেই বাড়ি নিয়ে যান। অভিযোগ, ওই রাতেই গ্রামের এক নির্জন মাঠে নিয়ে গিয়ে ফারজানাকে জোর করে বিষ খাওয়ান তাঁর মা ও দাদা। পরদিন সকালে মা আফসানা নিজেই পুলিশে খবর দিয়ে দাবি করেন, সুনীল বিষ খাইয়ে তাঁর মেয়েকে মেরে ফেলেছে।

প্রাথমিক সন্দেহের তির সুনীলের দিকে থাকলেও, পুলিশি তদন্ত ও কললিস্ট খতিয়ে দেখতেই বদলে যায় গল্পের মোড়। ডিএসপি ব্রজমোহন রাই জানান, অভিযুক্ত মা ও দাদা জেরার মুখে স্বীকার করেছেন যে, সামাজিক সম্মানের ভয়েই তাঁরা ফারজানাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আসলে মা আফসানা ওই যুবকের জমিতেই কাজ করতেন। গ্রামে এই সম্পর্কের কথা জানাজানি হওয়ায় তাঁরা লোক হাসানোর ভয়ে সিঁটিয়ে ছিলেন।

আপাতত খুনের অভিযোগে মা ও দাদাকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সুনীলের বিরুদ্ধে ফারজানা যে অভিযোগ করেছিলেন, সেই মামলাটিও আইনি নিয়ম মেনে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *