৭ এপ্রিল বসে ‘আসাম’ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন

Spread the news

।। আশু চৌধুরী ।।
৭ এপ্রিল : ১৯৩৭ সালের ৭ এপ্রিল শিলংয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে অসম বিধানসভার সূচনা হয়। সে সময় শিলং ছিল তৎকালীন অবিভক্ত আসামের রাজধানী এবং সেখানকার অ্যাসেম্বলি চেম্বারেই প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৩৭ সালে আসাম বিধানসভার প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন স্যার মৌলভী সাইয়িদ মুহাম্মদ সাদুল্লা। তৎকালীন সময়ে মুখ্যমন্ত্রী পদটিকে ‘প্রিমিয়ার’ বা প্রধানমন্ত্রী বলা হতো। পরে এটি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পরিচিতি পায়।  আসাম ভ্যালি পার্টির নেতা স্যার সাদুল্লা ১ এপ্রিল ১৯৩৭ সালে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৩৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
আর ওই সময় প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আসাম ভ্যালি পার্টি কংগ্রেসের অধীনে ছিল। এই বিধানসভার প্রথম স্পিকার ছিলেন বাবু বসন্ত কুমার দাস।

উত্তর-পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য অসম নিজস্ব গৌরবময় ইতিহাসের অধিকারী। বহু জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই রাজ্যকে প্রায়শই “ভারতের নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর” বা “মিনি ইন্ডিয়া” বলা হয়। ১৮৬১ সালের ইন্ডিয়া কাউন্সিল অ্যাক্ট অনুযায়ী অসমের নিজস্ব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ছিল না। ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হয়ে “লেজিসলেটিভ কাউন্সিল অব ইস্টার্ন বেঙ্গল অ্যান্ড আসাম” নামে একটি পরিষদ গঠিত হয়, যা ১৯০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে অসমে লেজিসলেটিভ কাউন্সিল গঠিত হয়, যেখানে মোট ৩৪ জন সদস্যের মধ্যে ১৩ জন মনোনীত এবং ২১ জন নির্বাচিত ছিলেন। ১৯১৯ সালের আইন অনুযায়ী সদস্যসংখ্যা বেড়ে ৫৩-এ পৌঁছায়, যার মধ্যে ৪১ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন কার্যকর হওয়ার পর ১৯৩৭ সালে অসমে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট বিধানসভা ব্যবস্থা চালু হয়। তখন আসাম বিধানসভায় ১০৮ জন নির্বাচিত সদস্য ছিলেন এবং উপরের কক্ষ বা লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে ২১ থেকে ২২ জন সদস্য থাকার বিধান ছিল।

দেশভাগের পর গণভোটের মাধ্যমে শিলেট জেলা পূর্ব পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিধানসভার সদস্যসংখ্যা কমে ৭১-এ দাঁড়ায়। তবে স্বাধীনতার পর তা আবার ১০৮-এ উন্নীত হয়। ১৯৪৭ সালে লেজিসলেটিভ কাউন্সিল বিলুপ্ত হওয়ায় অসমে এককক্ষবিশিষ্ট বিধানসভা ব্যবস্থা চালু হয়। পরবর্তী সময়ে আসাম থেকে একাধিক নতুন রাজ্যের সৃষ্টি হয়। ১৯৬৩ সালে নাগাল্যান্ড, ১৯৭১ সালের আইনের মাধ্যমে মেঘালয় পূর্ণাঙ্গ রাজ্যে পরিণত হয় এবং পরে মিজোরাম ও অরুণাচল প্রদেশ গঠিত হয়। ১৯৭২ সালে অসম সরকার রাজধানী শিলং থেকে গুয়াহাটির দিসপুরে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১৯৭৩ সালের ১৬ মার্চ সেখানে প্রথম বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

ভৌগোলিক পরিবর্তন ও জনসংখ্যার ওঠানামার কারণে বিধানসভার সদস্যসংখ্যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৭২-৭৮ সময়কালে সদস্যসংখ্যা ১২৬-এ উন্নীত হয় এবং পরবর্তীতেও তা বজায় রয়েছে।
সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিধানসভার মেয়াদ সাধারণত ৫ বছর হলেও ১৯৭৫ সালের জাতীয় জরুরি অবস্থার কারণে পঞ্চম আসাম বিধানসভার মেয়াদ ৬ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

উল্লেখযোগ্যভাবে, আসামের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে ভারতের তিনটি প্রধান ভৌগোলিক অঞ্চল উত্তর হিমালয় (পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়), উত্তর সমভূমি (ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা) এবং দাক্ষিণাত্য মালভূমির অংশ (কার্বি আংলং)।

আসামের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হলেন গোপীনাথ বরদলৈ। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন এবং ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬ থেকে ৬ আগস্ট ১৯৫০ পর্যন্ত দায়িত্বরত ছিলেন। আসামের অবিসংবাদী নেতা হিসেবে তাকে আসামের ‘লোকপ্রিয়’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় আসামকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখতে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৫০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর বিষ্ণুরাম মেধি আসামের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়ভার গ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে অধ্যক্ষ ছিলেন দেবেশ্বর শর্মা, লক্ষেশ্বর বরুয়া ও কুলধর চলিহা।

আসামের প্রথম ও একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হলেন সৈয়দা আনোয়ারা তৈমুর। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন এবং ৬ ডিসেম্বর ১৯৮০ থেকে ৩০ জুন ১৯৮১ সাল পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ভারতের যেকোনও রাজ্যের প্রথম মুসলিম মহিলা মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। রাজ্যের ১৭তম মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও ১৫তম অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ দৈমারি। বর্তমানে অসম বিধানসভা নামে পরিচিত। (তথ্য সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *