বরাক তরঙ্গ, ১৪ জানুয়ারি : ধলাই শ্মশান ঘাট সংলগ্ন জয়ধনপুর রাস্তার মুখ থেকে হাত-পা বাধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া যুবক সোনাবাড়িঘাট দ্বিতীয় খণ্ডের বাসিন্দা সাজান লস্কর। গত ১০ জানুয়ারি বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করা হয়। এমন অভিযোগে তার মা রাঙ্গিরখাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে এক এজাহার দাখিল করেন। ছয়জনকে অভিযুক্ত করেন এফআইআরে। চারদিন পর বুধবার সকালে সাজানকে হাত-পা বাধা অবস্থায় ধলাই এলাকায় পাওয়া যায়।
ঘটনার পর সাজান লস্কর বরাক তরঙ্গকে জানান, তিনি অভিযুক্তদের কাছে অটো ভাড়া বাবদ কিছু টাকা পান। টাকার তাগিদ করলে তাকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর তিনি ভয়ে আইনের দ্বারস্থ হন। ১০ তারিখ বিকেলে এলপি স্কুলের সামনে থেকে তাকে জোর করে অটোতে তুলে নেন। এরপর তিনি আর কিছু বুঝতে পারেনি।
এ দিকে, ঘটনাটি সাজানো বলে উল্লেখ করেন অভিযুক্তরা। তাঁদের ফাঁসাতে এই নাটকীয় ঘটনা সাজানের। ঘটনাটি নিয়ে এলাকার গ্রাম রক্ষী বাহিনীর সম্পাদক আলিম উদ্দিন লস্করকে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন। বলেন, সাজানের অটো নিয়ে অভিযু্ক্ত কালা মিয়া টিউবওয়েল কাজের স্থলে যাওয়া আসা করেন। সম্প্রতি তার অটো বদলে কালার ভাই আরেকটি অটো যাতায়াতের জন্য ঠিক করে নেন। এতে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি সালিসিতে মিমাংসা করার সিদ্ধান্ত হয়। সালিসির প্রথম দিন সাজান তার সমস্যা দেখালে আর হয়নি। এবং ১৪ জানুয়ারি সালিসির দিন ঠিক করা হয় তার সম্মতিতে। আলিম উদ্দিন জানান, এর আগে আইনি প্রক্রিয়া চলে যান সাজান। সাজান তার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে ১০৭ ধারায় মামলা করেন। মামলার পরদিনই সাজানের অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা করেন। আলিম উদ্দিন বলেন, অপহরণের অভিযোগ আনলেও স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে ভাগা বাজারে দেখেছেন। এরপর তাদের সন্দেহ হয় সাজান ধলাই অঞ্চলে রয়েছেন। তিনি জানান, আজ তাঁর উপস্থিতিতে পুলিশ সাজানকে পরিবারের কাছে সমঝে দেয়।



