বরাক তরঙ্গ, ১৫ ফেব্রুয়ারি : মণিপুরের উখরুল জেলা-র লাইথন সারেইখোং এলাকায় শনিবার ফের গুলির ঘটনা ঘটায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টাংখুল গ্রাম স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সিকিবুং এবং লাইথনম সারেইখোংয়ের মধ্যবর্তী পাহাড়ের পাদদেশে টাংখুল স্বেচ্ছাসেবকদের পক্ষ থেকে ১২-বোর অস্ত্র দিয়ে প্রায় ১২ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। যদিও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলি ফাঁকা গুলি ছিল। ঘটনার পর জেলা পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) এবং টাংখুল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-এর একটি দল মংকোট চেপু এলাকায় থৌবল নদীর তীরে মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF)-এর একটি দল লিটান সারেইখোং এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নদীর দুই পাশেই নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রাজ্য পুলিশ কুকি এবং নাগা—উভয় সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছে। পুলিশ সতর্ক করে দিয়েছে, এ ধরনের গুজব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি লিটান এলাকায় টাংখুল সম্প্রদায়ের এক সদস্যকে মারধরের অভিযোগের পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও পরবর্তীতে বিষয়টি উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়।
এদিকে, গত সপ্তাহ থেকে চলমান উত্তেজনার কারণে ইম্ফল–উখরুল সড়কে যানবাহন চলাচল, বিশেষ করে গণপরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ দেখা যাওয়ায় রাজ্য সরকার উখরুল জেলা এবং কামজং জেলা ও কাংপোকপি জেলা-র কিছু অংশে পাঁচ দিনের জন্য জারি থাকা ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে।
প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।



