১৬ ফেব্রুয়ারি : আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। প্রায় ২২ বছর পর ক্ষমতায় ফেরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অনুষ্ঠানটিকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশি-বিদেশি মোট ১২০০ জন অতিথি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
আন্তর্জাতিক অতিথিরা
১৩টি দেশ থেকে সরকারপ্রধান, স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। উল্লেখযোগ্য অতিথিরা হলেন—
* ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিরলা
* ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে
* পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার
* তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী
* সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি
* সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও মালদ্বীপের প্রতিনিধি দল
চিনের পক্ষ থেকেও একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “নতুন সরকার সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়” নীতির প্রতিফলন ঘটাবে এই আমন্ত্রণ।
অনুষ্ঠানধাপ
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হবে—
সকাল ১০টা:
* নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ
* প্রধান নির্বাচন কমিশনার কর্তৃক শপথবাক্য পাঠ
বিকেল ৪টা:
* মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপ
* রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বা মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ গ্রহণ
* প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক (সম্ভাব্য)
দেশি অতিথির
* প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
* প্রাক্তন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ
* বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি
* ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ
* ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
* বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি
নিরাপত্তা ও সম্প্রচার
সংসদ ভবনের চারপাশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ড্রোন নিষিদ্ধ, আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে এবং বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর থাকবে। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেল।
বিএনপি নেতারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতি নতুন সরকারের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের নেতারা মন্তব্য করেছেন, “এটা শুধু শো-অফ, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কী করবে সেটাই দেখার বিষয়।”



