৩১ মার্চ : মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এখন আর শুধু আঞ্চলিক সংকটে সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিমা জোটের ভেতরেও। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নেতৃত্বে ইরানে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে স্পেন এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরেই নতুন ধরনের বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সোমবার স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় যে, ইরানে হামলায় নিয়োজিত কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। একই সঙ্গে স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি—রোটা ও মোরন—ব্যবহারের অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই যুদ্ধকে “অবৈধ”, “বেপরোয়া” এবং “অন্যায্য” আখ্যা দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একতরফা সামরিক পদক্ষেপ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Margarita Robles সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করে স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইরান-সংক্রান্ত কোনো সামরিক অভিযানের জন্য স্পেনের আকাশসীমা বা ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ পুরোপুরি বেআইনি ও অন্যায়। তাই এ ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডে স্পেন অংশ নেবে না।” সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এটি আগেই নির্ধারিত একটি নীতিগত অবস্থানের অংশ।
তবে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। মানবিক বিপর্যয়, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম বা বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছে স্পেন। এর ফলে বোঝা যাচ্ছে, স্পেন কেবল সামরিক আগ্রাসনের বিরোধিতা করছে—মানবিক সহায়তা নয়।
স্পেনের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। আগে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অভিযানে যাওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো সহজেই স্পেনের আকাশপথ ব্যবহার করতে পারত। এখন সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুদ্ধবিমানগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, যা সময় ও জ্বালানি—উভয় ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



