শ্যুটআউট, নিহত তৃণমূলকর্মী গ্রেফতার ৪

Spread the news

২৬ মার্চ : ভোটের মুখে দক্ষিণ কলকাতার বাঘাযতীনের পূর্ব ফুলবাগান এলাকা রক্তাক্ত। বহুতলের ছাদে গভীর রাতে মদের আসর ঘিরে সংঘর্ষ, তার জেরেই গুলিকাণ্ড—মৃত তৃণমূলকর্মী রাহুল দে (ওরফে বুম্বলা)। ঘটনায় জখম আর এক তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ যুবক জিৎ মুখোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই চার অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১টা নাগাদ পাটুলি থানায় খবর আসে পূর্ব ফুলবাগানের একটি বহুতলের ছাদে বচসা ও হামলার। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় দুই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে চিকিৎসকেরা রাহুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর মাথায় গুলির আঘাত ছিল। অন্যদিকে, জিতের মাথায় কাটা জখমের পাশাপাশি গুলি ছুঁয়ে যাওয়ার চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সময় ছাদে বসে মদ্যপান করছিলেন রাহুল ও জিৎ। সেই সময় আচমকা কয়েকজন সেখানে পৌঁছে তাঁদের উপর হামলা চালায়। জিৎ পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, হঠাৎই হামলা হয় এবং গুলিও চালানো হয়, যার জেরে মৃত্যু হয় রাহুলের।

ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে মৃতের পরিবারের অভিযোগ। রাহুলের ভাইয়ের দাবি, ‘অন্ধকারে হঠাৎ কয়েকজন ছাদে উঠে এসে নাম ধরে জিজ্ঞেস করে গুলি চালায়। পরিচিতর বাড়ির ছাদে ডেকে এনে এভাবে খুন—এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত।’

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, জিৎ মুখোপাধ্যায়ের ডাকে ওই রাতে সেখানে গিয়েছিলেন রাহুল। দীর্ঘদিন তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল না বলেই জানিয়েছে পরিবার। কেন আচমকা ডাকা হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, জিৎও স্থানীয়ভাবে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগেও কিছু অভিযোগ ছিল।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় চার জনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দীপ রায় ওরফে পুকাই (৩৩), বিধান বন্দ্যোপাধ্যায় (২৭), রাজা বণিক (৩৬) এবং জয়ন্ত ঘোষ। এঁদের সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যের কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নারেন্দ্রপুরের পাঁচপোতা এলাকায় জুয়ার টাকা নিয়ে বিবাদের জেরেই এই হামলা হয়ে থাকতে পারে। যদিও রাজনৈতিক যোগ বা দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।

রাজনৈতিক শত্রুতা, ব্যক্তিগত বিবাদ না কি অর্থ লেনদেন—কোন কারণের জেরে এই খুন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আরও কেউ জড়িত কি না, তা খুঁজে দেখছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *