দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৬ ফেব্রুয়ারি : প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শিলচর রাঙ্গিরখাড়িস্থিত কাশী ভোলাগিরি আশ্রমে দুই দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী ও পারন উৎসব নানান সনাতনী ধর্মীয় নীতি ও নিয়ম মেনে পালিত হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা থেকে উপস্থিত অগণিত ভক্ত শিবচতুর্দশীকে কেন্দ্র করে আশ্রমের শিবলিঙ্গ, নন্দী মহারাজ ও ভোলানন্দগিরি মহারাজের আর্শীবাদ ধন্য হন দুধ, ঘি, মধু ও বেলপাতা দিয়ে স্নান করিয়ে। পরের দিন সোমবার সকালে উপবাস ভেঙ্গে পারন উৎসবে সকলে অংশ নেন। রবিবার চার প্রহরে বিশেষ শিবপূজা ও রুদ্রভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। কাশী ভোলানন্দ গিরি আশ্রমের অধ্যক্ষ আচার্য্য স্বামী মাধবানন্দ গিরি মহারাজ বলেন, “শিলচর ভোলাগিরি আশ্রম এই অঞ্চলে সুদীর্ঘ বছর ধরে আধ্যাত্মিক বাতাবরণ ছড়িয়ে আসছে। প্রতি বছর শিবরাত্রির দিনে অগণিত ভক্তদের সমাগম ঘটছে। ভক্তরা আর্শীবাদ ধন্য হচ্ছেন। আগামী দিনে আশ্রমের নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে সৎসঙ্গ ভবন ও সাধু নিবাস থাকবে।” তিনি ধর্মপ্রাণ ভক্তবৃন্দের কাছে নির্মাণের জন্য সহযোগিতা কামনা করেন।
শ্রীমৎ স্বামী চৈতন্যনন্দ গিরি মহারাজ বলেন, “শিবরাত্রি রাতে ভগবান শিব প্রথম শিবলিঙ্গ রূপে প্রকাশিত হন, যা সৃষ্টি, পালন ও সংহারের প্রতীক। এই দিনেই শিবের সঙ্গে মাতা পার্বতীর বিবাহ সংঘটিত হয়। শিকারি ত্রিপান্তকের কাহিনীও বিখ্যাত, যিনি অজান্তে শিবরাত্রি ব্রত পালন করে মোক্ষ লাভ করেন।”কাশী থেকে আগত আচার্য স্বামী অনঘানন্দ পুরী মহারাজ বলেন, “সত্যিকারের ভক্তি ও অহংকারবর্জিত নিঃস্বার্থ সেবাই ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করে। অহংকার ভক্তিকে ধ্বংস করে আধ্যাত্মিক পথ থেকে বিচ্যুত করে। অহংকারহীন শুদ্ধ ভক্তিই ঈশ্বর উপলব্ধির একমাত্র উপায়।” তিনি কমিটির নবীন-প্রবীণ সবাই ও ভক্তবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন। আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী ভুবনেশ্বরানন্দ গিরি মহারাজ বলেন, “নিষ্ঠাভরে শিবচতুর্দশী ব্রত পালনে জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও মোক্ষ লাভ হয়। অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং শিবকৃপায় সকল কামনা পূর্ণ হয়।

অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেন কাশী থেকে পণ্ডিত রাজু আরিয়া, পঙ্কজ দে, সৌরভ চন্দ, সৌমেন দত্ত চৌধুরী, ভোলানাথ চৌধুরী, সুশান্ত সেন, শঙ্কর দাস, বেদব্রত রায়, সন্তোষ রায় প্রমুখ। ভক্তিমূলক সঙ্গীত পরিবেশনে অবদান রাখেন আশীষ রায়, রীতা নাথ সহ অন্যান্য শিল্পীরা। সোমবার এই অঞ্চলের প্রায় তিন হাজার ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।



