বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে দেখে জানালা দিয়ে ছেলেকে নামিয়ে দেন মা, নেই মায়ের সন্ধান

Spread the news

২৬ মার্চ : ঈদের ছুটির শেষে মায়ের সঙ্গে ঢাকায় ফিরছিল আট বছরের ছোট্ট আলিফ। রাজবাড়ি দৌলতদিয়া ঘাট থেকে বাসে পদ্মা পার করে ঢাকায় যাওয়ার কথা। বাসে উঠে মায়ের কোলে বসে সে। পন্টুন ধরে এই বার বাস উঠবে ফেরিতে। ভেসে পার হবে পদ্মা। ঘাটে ফেরি আসতেই আচমকা চলতে শুরু করে বাস।

বিপদ বুঝেছিলেন আলিফের মা। ছোট্ট ছেলেকে কোল থেকে তুলে বাসের জানলা দিয়ে নীচে নামিয়ে দেন। এর পরে বাস সোজা পদ্মার বুকে। আলিফের মায়ের এখনও খোঁজ নেই। তবে বুধবার রাতে পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় এখনও অবধি ২৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলি। আর এই দুর্ঘটনার পরে সকাল থেকেই একের পরে এক মর্মান্তিক সব খবর সামনে আসছে।

বুধবার বিকেল ৫টা ১৫ নাগাদ দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকাগামী যাত্রিবাহী বাস পদ্মায় পড়ে যায়। সেই বাসেই ছিলেন ঢাকার বাইপাস এলাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মী জ্যোৎস্না বেগম (৩৫) ও তাঁর ছেলে আলিফ। রাজবাড়ি সদরের মাছোঘাটায় বাড়ি তাঁদের। ইদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন জ্যোৎস্না।

জ্যোৎস্নার মা সাহেদা বেগম জানান, মেয়েকে বাসে তুলে দিয়ে সবেমাত্র বাড়িতে ফেরেন। হঠাৎ মেয়ের ফোন। সাহেদা বলেন, ‘মেয়ে বলল, আম্মু বাসটা নদীতে পড়ে যাচ্ছে। এর পরে আর কোনও কথা নেই। আমার মেয়েটা কথা বলতে বলতে জলে চলে গেল।’ এর পরেই ছুটতে ছুটতে ঘাটে আসেন সাহেদা।

দেখেন, আলিফ ঘাটে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদছে। দিদিমাকে দেখে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে সে। সারা শরীর তখন জলে ভেজা। মা জানলা দিয়ে নামানো পরে ঘাটের কাছে জলে পড়ে যায় আলিফ। কোনও মতে সাঁতরে আসে। পাগলের মতো মাকে খুঁজছে এখনও। বার বার বলছে, ‘মা যে কোথায় গেল! মাকে তো আর খুঁজেই পাচ্ছি না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *