বরাক তরঙ্গ, ৬ ফেব্রুয়ারি : বরাক উপত্যকার প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতিকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরার লক্ষ্যে ৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার শ্রীভূমি জেলার আনন্দপুরে আয়োজিত হতে চলেছে ‘শনবিল উৎসব ২.০’। এই উৎসবকে ঘিরে আনন্দপুরে পর্যটন, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সচেতনতার এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতিপর্ব চূড়ান্ত। উৎসবের আনন্দে ভাসছে পুরো আনন্দপুর।
এদিন সকালে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধান অতিথি ভারতীয় বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার চিফ মার্শাল অরূপ রাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রাজীবমোহন পন্থ ও হোজাইর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মানবেন্দ্র দত্তচৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. প্রদোষ কিরণ নাথ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক রেজিস্ট্রার ড. সন্দীপ রত্ন সহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অন্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
প্রসঙ্গত, উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি শনবিলকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৪ সালে প্রথম শনবিল উৎসব আয়োজনের পর এ বছর এই উৎসবে শামিল হয়েছে হোজাইর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ও। আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছে নর্থ ইস্টার্ন কাউন্সিল ও ডোনার মন্ত্রক। এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দিনভর চলবে লোকনৃত্য ও লোকসংগীত প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রন্থ প্রকাশ, পুরস্কার বিতরণী ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনা। এতে অংশ নেবেন আমন্ত্রিত ও স্থানীয় শিল্পীরা।
আয়োজক কমিটির সংযোজক অধ্যাপক অরুণজ্যোতি নাথ জানিয়েছেন, এই উৎসব মূলত শনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য, নৌজীবন, লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনধারাকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরারই এক প্রয়াস। শনবিল উৎসব ২.০’ শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও পর্যটন বিকাশের এক সম্মিলিত উদ্যোগ। এই উৎসবের মাধ্যমে শনবিল বরাক উপত্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে। ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও ইকো-ট্যুরিজমের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।



