১ এপ্রিল : ক্রিমিয়ার একটি খাড়া পাহাড়ে ধাক্কা লেগে ভেঙে পড়ল রাশিয়ার সেনাবাহিনীর মালবাহী An-26 বিমান। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পাইলট-সহ ৬ জন ক্রু সদস্য, বাকিরা যাত্রী। রাশিয়ার সংবাদসংস্থা তাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ (মস্কো সময়) বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। যদিও দুর্ঘটনাস্থল শনাক্ত করা হয়েছে, তবুও রাশিয়ার সেনাবাহিনীর তরফে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিমানে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।
একটি সূত্রের দাবি, এই দুর্ঘটনার পেছনে কোনও মিসাইল বা ড্রোন হামলার ঘটনা নেই। এমনকি পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে মিলিটারি কমিশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, An-26 বিমানটি সর্বোচ্চ প্রায় ৪০ জন যাত্রী ও মালপত্র বহনে সক্ষম। ১৯৬০ সাল থেকে সামরিক ও অসামরিক পরিবহণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই বিমান। স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বে চলাচলের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
এর আগেও একাধিকবার এই মডেলের বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ইউক্রেন, দক্ষিণ সুদান এবং আইভরি কোস্টে An-26 বিমান দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনের জ়াপোরিজ়হিয়া অঞ্চলে একটি An-26 বিমান ভেঙে পড়ে। ২০২০ সালে উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনে প্রশিক্ষণ চলাকালীন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ২৭ জনের। একই বছরে দক্ষিণ সুদানে বিমান দুর্ঘটনায় পাঁচ রুশ নাগরিক-সহ মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০১৭ সালে আইভরি কোস্টে An-26 দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪ জন।



