২০ মার্চ : আরজি কর হাসপাতালে ফের এক চাঞ্চল্যকর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এল। শুক্রবার সকালে হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের লিফটে আটকে পড়ে মৃত্যু হল অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির। অভিযোগ, লিফটটি যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বেসমেন্টে আটকে গেলেও দীর্ঘ এক ঘণ্টা কোনো উদ্ধারকারী বা লিফট অপারেটরকে পাওয়া যায়নি। সঠিক সময়ে উদ্ধার না হওয়ায় লিফটের ভেতরেই দমবন্ধ হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দমদমের বাসিন্দা অরূপবাবু এদিন সকালে তাঁর স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁর ছেলের হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ায় অস্ত্রোপচারের কথা ছিল। ভোরে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করতে তিনি ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের পাঁচ তলায় যান। সেখান থেকে নিচে নামার সময় লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লিফটটি গ্রাউন্ড ফ্লোরে না থেমে সরাসরি বেসমেন্টে চলে যায় এবং সেখানে লক হয়ে যায়।

মৃতের আত্মীয়দের অভিযোগ, লিফটে কোনো অপারেটর ছিলেন না। অরূপবাবু ভেতর থেকে চিৎকার করে সাহায্যের আবেদন জানালেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টা লিফটের ভেতরে ছটফট করার পর যখন দরজা খোলা হয়, তখন দেখা যায় অরূপবাবু নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের আত্মীয় ও অন্যান্য রোগীর পরিজনেরা। হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় টালা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। হাসপাতাল চত্বরে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এই ঘটনায় হাসপাতালের লিফট রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি অবস্থায় উদ্ধারকাজের পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। এক ঘণ্টা ধরে কেন কাউকে পাওয়া গেল না, সেই উত্তর খুঁজছে নিহতের পরিবার।
খবর : উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।



