১৪ মার্চ : ইরান-ইজরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ১৪তম দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ১৪ মার্চ শনিবার ইরান একের পর এক প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি ও উত্তরাঞ্চলের একাধিক এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের পালমাচিম ও ওভদা বিমানঘাঁটি, শিন বেত সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস, কুয়েত, বাহরাইন, কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা, জর্ডান ও ইরাকসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে পাঁচটি মার্কিন কেসি–১৩৫ ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও দাবি করা হয়েছে।
ইরানের নতুন নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার পদক্ষেপও চালু থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানও তীব্রতর হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে থাকা সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেছেন, দ্বীপটির তেল অবকাঠামোও পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর মধ্যে রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রীয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের ৬ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, ইরানের পাল্টা পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। গাল্ফ অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা হলেও বেশিরভাগই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
যুদ্ধের এই পর্যায়ে উভয় পক্ষেই ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। ইরানে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইজরায়েলে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতিও ঘটেছে। অন্যদিকে মার্কিন বাহিনীতেও কয়েক ডজন সেনা হতাহত হওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে।



