বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তীকে সামনে রেখে পাথারকান্দিতে রামকৃষ্ণ সেবা সমিতির বর্ণাঢ্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি। 
বরাক তরঙ্গ, ১১ জানুয়ারি : যিনি যুবসমাজকে দিয়েছিলেন আত্মবিশ্বাসের মন্ত্র, যাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল উঠো, জাগো এবং লক্ষ্য না পাওয়া পর্যন্ত থেমো না  সেই বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের পবিত্র জন্মজয়ন্তীকে সামনে রেখে পাথারকান্দিতে এক অনন্য সৃজনশীল আয়োজন। রং-তুলির ছোঁয়ায় মহান মনীষীর আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পাথারকান্দি রামকৃষ্ণ সেবা সমিতির উদ্যোগে আজ অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে এই আয়োজন যেন পরিণত হয় স্বামীজির প্রতি শ্রদ্ধা ও সৃষ্টিশীলতার এক জীবন্ত উৎসবে।১২ জানুয়ারি, বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের পবিত্র জন্মজয়ন্তীকে সামনে রেখে পাথারকান্দি রামকৃষ্ণ সেবা সমিতির উদ্যোগে আজ পাথারকান্দিতে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর ও সৃজনশীল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। স্থানীয় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা যেন এক অন্যরকম উৎসবের রূপ নেয়।

রবিবার সকাল থেকেই পাথারকান্দি টাউন কালীবাড়ি নাট মণ্ডপ চত্বরে দেখা যায় প্রতিযোগীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় ভরা দীর্ঘ লাইন। ছোট ছোট কচিকাঁচাদের হাতে আঁকার খাতা, রং-তুলি আর চোখে মুখে স্বামীজিকে আঁকার আগ্রহ—সব মিলিয়ে চারদিকজুড়ে ছিল এক অনন্য পরিবেশ।পাথারকান্দি টাউন কালীবাড়ি পরিচালন সমিতির আন্তরিক সহযোগিতায় সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা দুটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় শতাধিক প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কচিকাঁচাদের কোমল হাতের ছোঁয়ায় রং-তুলিতে ফুটে ওঠে বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের নানা রূপ। কোথাও ধরা পড়ে তাঁর বজ্রকণ্ঠী আহ্বান, কোথাও বা গভীর ধ্যানমগ্ন চেহারা শিশুদের কল্পনায় স্বামীজি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠেন।এই আয়োজন সম্পর্কে পাথারকান্দি রামকৃষ্ণ সেবা সমিতির সম্পাদক অপূর্ব দে বলেন,আমরা এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় আশাতীত সাড়া পেয়েছি। এত সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি আমাদের অত্যন্ত আনন্দিত করেছে।তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের জন্মোৎসব উপলক্ষে পাথারকান্দি টাউন কালীবাড়িতে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানের সন্ধ্যায় এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে শংসাপত্রের সঙ্গে সুদৃশ্য স্মারক ফলক তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আজকের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর হাতেই একটি করে অংশগ্রহণমূলক শংসাপত্র প্রদান করা হবে।সব মিলিয়ে, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও ভাবনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এক সফল ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা পাথারকান্দির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *