রামকৃষ্ণ জয়ন্তী: ভক্তি–সংস্কৃতির দীপশিখায় আলোকিত হাইলাকান্দি

Spread the news

অনিন্দিতা পাল, হাইলাকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২০ ফেব্রুয়ারি : ফাল্গুনের হালকা রোদ, মন্দিরচত্বরে ফুলের গন্ধ, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তিগীতির সুর—এই আবহেই শুরু হয়েছে রামকৃষ্ণ পরমহংস-এর জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন। রামকৃষ্ণ মিশনের হাইলাকান্দি শাখা ও লালার চন্দ্রপুরের রামকৃষ্ণ শারদা সেবাশ্রম-এ নেওয়া হয়েছে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি। শহরজুড়ে যেন এক শান্ত-উৎসবের আবেশ। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মঙ্গলারতি, পূজা ও পুষ্পাঞ্জলির মাধ্যমে  সূচনা হয়েছে উৎসব। হাইলাকান্দির শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ সেবা সমিতি প্রাঙ্গণে শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে চারদিনের উৎসব আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই ভক্ত–অনুরাগীদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে গোটা মন্দির চত্বর।উৎসবের সূচনা হয় প্রাতঃস্মরণ ও মঙ্গল আরতির মাধ্যমে। পরে ছিল পুষ্পাঞ্জলি প্রদান ও ভক্তিমূলক পাঠ। মধ্যাহ্নে প্রসাদ বিতরণে উপচে পড়ে ভিড়। শিশু থেকে প্রবীণ—সকলের অংশগ্রহণে দিনভর ছিল এক গাম্ভীর্য ও আনন্দের মেলবন্ধন। বিকেলে ভক্তিগীতি ও শ্যামাসঙ্গীত পরিবেশনে স্থানীয় শিল্পীরা উৎসবের আবহকে আরও ঘন করে তোলেন। সন্ধ্যা নামতেই মন্দির প্রাঙ্গণ আলোয় ঝলমল করে ওঠে। প্রদীপের সারি, ফুলের সজ্জা আর ভক্তদের সমবেত কণ্ঠে গাওয়া কীর্তন যেন এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করে।

সন্ধ্যাতেই শুরু হয়েছে মাঙ্গলিক কনসার্ট—স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের কণ্ঠে ভজন, কীর্তন ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মেলবন্ধনে জমে ওঠে আসর। উপস্থিত দর্শক–শ্রোতাদের করতালিতে বারবার মুখর হয়ে ওঠে প্রাঙ্গণ। আয়োজকদের কথায়, “শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, আত্মশুদ্ধি ও মানবসেবার বার্তাই এই উৎসবের মূল সুর।” সেই বার্তাকেই সামনে রেখে আগামী দিনগুলোতেও থাকবে ধর্মসভা, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রক্তদান শিবির।  আধ্যাত্মিকতার আবহে মন্দির চত্বর এখন যেন এক মিলনমেলা—ভক্তি, সংস্কৃতি ও মানবিকতার। এদিকে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা সেবাশ্রম, চন্দ্রপুর লালা-তেও  বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে পালিত হল ভগবান শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম জন্মতিথি।দিনটি শুরু হয় ভোরবেলার  প্রভাত ফেরির মাধ্যমে। আশ্রমের গুরু ভাই ও বোনেরা ভক্তিমূলক গান ও নামসংকীর্তনের মধ্যে দিয়ে আশ্রম প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পরিক্রমা করেন। পরিবেশ ভরে ওঠে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আনন্দের সুরে।

এরপর দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় গীত-সংকীর্তন ও ভজন। ভক্তরা আন্তরিক ভক্তিভাবে শ্রী শ্রী ঠাকুরের স্মরণে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। আশ্রম প্রাঙ্গণ ছিল ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখরিত ও আনন্দময়। দুপুরে সকলের জন্য মহাপ্রসাদের আয়োজন করা হয়। অসংখ্য ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে প্রসাদ গ্রহণ করেন। শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে এই পর্ব সম্পন্ন হয়। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সান্ধ্য উপাসনা ও আরতি। প্রদীপের আলো ও ধূপের গন্ধে আশ্রমের পরিবেশ হয়ে ওঠে অপূর্ব পবিত্র ও শান্তিময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *