ফের শিরোনামে ‘মহাকুম্ভ ভাইরাল গার্ল’, স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো মামলা

Spread the news

১০ এপ্রিল : দেশজুড়ে আলোচিত ‘মহাকুম্ভ ভাইরাল গার্ল’ মোনালিসাকে ঘিরে ফের বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের খারগোন পুলিশ মোনালিসার স্বামী ফারমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগ, বিয়ের সময় মোনালিসা নাবালিকা ছিলেন। সেই কারণে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং বেআইনি বিয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে।

মোনালিসা প্রথম আলোচনায় আসেন কুম্ভমেলা চলাকালীন। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে রুদ্রাক্ষের মালা বিক্রি করার সময় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। সেখান থেকেই রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা পান তিনি।
মামলার তদন্ত শুরু হয় কেরালার একটি মন্দির থেকে, যেখানে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল বলে জানা যায়। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধার কার্ডে উল্লেখিত বয়সের ভিত্তিতেই বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছিল। পরে সেই বিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে নথিভুক্ত করা হয়।

তবে তদন্তে বড় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। মোনালিসার জন্মসনদ হিসেবে যে নথি জমা দেওয়া হয়েছিল, সেটি জাল বলে দাবি তদন্তকারী দলের। ওই নথিতে জন্মতারিখ দেখানো হয়েছিল ১ জানুয়ারি ২০০৮, যা প্রকৃত বয়সের তুলনায় প্রায় দুই বছর বেশি। এই জাল শংসাপত্রটি মহেশ্বর মিউনিসিপ্যালিটি থেকে ইস্যু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই সেই নথি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে। মামলাটি কমিশনের সামনে উপস্থাপনকারী আইনজীবী প্রথম দুবে দাবি করেছেন, কেরালার সিপিএম নেতাদের একাংশ এবং পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার সদস্যরা এই বিয়ে আয়োজনে ভূমিকা নিয়েছিলেন।

তাঁর অভিযোগ, এই বিয়েকে ঘিরে একটি বিশেষ সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে, যা তথাকথিত “লাভ জিহাদ” বিতর্ককে ঘিরে পাল্টা বয়ান তৈরির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে জাতীয় কমিশন। ইতিমধ্যেই কেরল ও মধ্যপ্রদেশ—দুই রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশকে আগামী ২২ এপ্রিল দিল্লিতে তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতি তিন দিন অন্তর রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত বিয়ে নয়, বরং আইন, সমাজ ও রাজনীতির জটিল সংযোগকে সামনে এনে দিয়েছে। এখন নজর তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট ও আইনি প্রক্রিয়ার দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *