হিমন্ত বিশ্ব শৰ্মা ও তাঁর স্ত্রীকে ঘিরে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ পবনের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৮ এপ্রিল : দেশের রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও তাঁর স্ত্রী রিণিকি ভূঞা শর্মার বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতা পবন খেরার তোলা একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগকে ঘিরে। খেরার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা দাবি করেন, এই সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস যে রিণিকি ভূঞা শর্মার পাসপোর্ট দেখিয়েছে তা জাল এবং এই তথ্য পাকিস্তান থেকে সরবরাহ করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে পবন খেরার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন রিণিকি ভূঞা শর্মা। মঙ্গলবার অসম পুলিশের একটি দল খেড়াকে আটক করতে দিল্লির তাঁর বাসভবনে পৌঁছালেও তিনি তখন বাড়িতে ছিলেন না। এরপর মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, খেরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং অসম পুলিশ তাঁকে যেখানেই থাকুন না কেন খুঁজে বের করবে। যদিও তাঁর হায়দরাবাদে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠলেও তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এদিকে, বুধবার অজ্ঞাত স্থান থেকে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি ভিডিও প্রকাশ করেন পবন খেরা। সেখানে তিনি ফের মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, “অসম পুলিশ নয়, এই সব কাজ করাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লিতে আমার বাড়িতে প্রায় ১০০ জন পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আমি তখন বাড়িতে ছিলাম না। আমার প্রয়াত বোনের একটি ব্যবহৃত না হওয়া ফোন, একটি পুরনো ল্যাপটপ এবং একটি আইপ্যাড পুলিশ নিয়ে যায়। দু’টি পেনড্রাইভ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, কিন্তু সেগুলি কোথা থেকে এল বা কে নিয়ে গেল, তা আমি জানি না।”

খেরা আরও বলেন, “আমি যেখানেই যাই, মনে করা হচ্ছে আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি এবং সেখানে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। কংগ্রেস শুধু কিছু প্রশ্ন তুলেছে। সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার বদলে আমাদের চুপ করানোর চেষ্টা চলছে। আমরা যে তথ্য পেয়েছি, তার তদন্ত হওয়া উচিত। ভুল করলে শাস্তি দিন, কিন্তু ভয় দেখিয়ে চুপ করানো যাবে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ভয় দেখানো আপনার স্বভাব হতে পারে, কিন্তু ভয় পাওয়া আমাদের স্বভাব নয়। আমি কংগ্রেসের একজন কর্মী, রাহুল গান্ধীর সৈনিক—তাই ভয় পাই না। আমরা শুধু চাই এই তথ্যগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।”

খেরা অভিযোগ করেন, “আমাদের দলের সর্বভারতীয় সভাপতির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী যে কটূক্তি করেছেন, তা কি অসমের মানুষ মেনে নেবেন? একটি প্রাচীন সংস্কৃতির রাজ্যে এমন আচরণ অত্যন্ত অশোভনীয়।”

পাশাপাশি তিনি আরও কয়েকটি প্রশ্ন তুলে বলেন, “ইজিপ্টের পাসপোর্ট, গোল্ডেন ভিসা, অ্যান্টিগুয়া-বার্বুদার ভিসা—এসব তথ্য সত্যি না মিথ্যা? আপনার পরিবার কি ভুয়া কেওয়াইসি দিয়ে আমেরিকায় কোম্পানি খুলেছে? আমরা সরকারে নেই, তদন্ত করার দায়িত্ব আপনাদের।”

এছাড়াও তিনি দাবি করেন, “আরও একটি তথ্য এসেছে—আপনার এক পুলিশ আধিকারিক ভাইয়ের পরিবার দুবাইয়ে থাকে, যেখানে স্কুলের ফি বছরে কমপক্ষে ২১ লক্ষ টাকা। এটি কি সত্যি? আপনি শুধু নির্বাচনে ব্যস্ত, আর আমরা অসমের মানুষের সমস্যা নিয়ে চিন্তিত।”
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এখন নজর তদন্ত ও পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *