বেতার ও দূরদর্শন শিল্পী প্রয়াত রঞ্জিৎ পুরকায়স্থের শোকসভা পাথারকান্দির চতুরঙ্গের

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১ জানুয়ারি : বরাক উপত্যকার সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, বেতার ও দূরদর্শনের খ্যাতনামা শিল্পী প্রয়াত রঞ্জিৎ পুরকায়স্থের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করল পাথারকান্দির বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠন চতুরঙ্গ। প্রয়াত এই সঙ্গীতসাধকের স্মরণে বুধবার সন্ধ্যায় সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে এক আবেগঘন শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভা শুরুতেই প্রয়াত শিল্পীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতার সেই মুহূর্তে যেন উপস্থিত সকলের হৃদয়ে ফিরে আসে রঞ্জিৎ পুরকায়স্থের সুরেলা কণ্ঠ, তাঁর সংগীতসাধনার দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি।

শোকসভায় উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা প্রয়াত শিল্পীর জীবনের নানা দিক, তাঁর সঙ্গীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক অবদানের কথা স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন। চতুরঙ্গ সংস্থার কার্যকরী কমিটির সদস্য পুলক সোম স্বাগতিক বক্তব্যে প্রয়াত রঞ্জিৎ পুরকায়স্থকে বরাক উপত্যকার সঙ্গীত জগতের এক উঁচুমাপের শিল্পী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, গ্রাম-বাংলার লোকসঙ্গীতকে শুধু বরাক উপত্যকাতেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রঞ্জিৎ পুরকায়স্থের অবদান অনস্বীকার্য। শিলচর ও আগরতলার বেতার ও দূরদর্শনে নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশন করলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত সাধারণ ও বিনয়ী।

সংস্থার মুখ্য উপদেষ্টা সিদ্ধার্থ শেখর পালচৌধুরী প্রয়াত শিল্পীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, লোকসঙ্গীতে সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী রঞ্জিৎ পুরকায়স্থ ছিলেন একজন প্রকৃত সাংস্কৃতিক প্রেমী। চতুরঙ্গ সংস্থার জন্মলগ্ন থেকেই তিনি সংস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। বিশেষ করে সত্তরের দশকে চতুরঙ্গ পরিচালিত ‘চতুরঙ্গ সঙ্গীত বিদ্যামন্দির’ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশিষ্ট নাগরিক ও ১৯৬১ সালের ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হরেন্দ্রচন্দ্র দাস আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, রঞ্জিৎ পুরকায়স্থের সঙ্গে আমার ছিল দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। সঙ্গীতের পথে চলতে গিয়ে তিনি রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি অনুপ্রেরণা। আজ তাঁর প্রয়াণে নতুন প্রজন্ম হারালো এক উজ্জ্বল দিশারিকে। শোকসভায় আরও বক্তব্য রাখেন চতুরঙ্গ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পীযুষকুমার দেব ও সুরঞ্জন দাস। তাঁরা প্রয়াত শিল্পীর মানবিকতা, নিষ্ঠা ও সঙ্গীতের প্রতি আজীবন ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয় আগামী বৃহস্পতিবার সংস্থার পক্ষ থেকে প্রয়াত রঞ্জিৎ পুরকায়স্থের কানাইবাজারস্থিত নিজ বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একটি শোকবার্তা তুলে দেওয়া হবে।
এই স্মরণ সভা যেন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক মহান শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি হয়ে রইল। রঞ্জিৎ পুরকায়স্থের কণ্ঠে ভেসে ওঠা লোকসঙ্গীতের সুর আজও বরাক উপত্যকার আকাশে অনুরণিত হবে এই প্রত্যাশাই রাখলেন উপস্থিত সকলেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *