বিশেষ প্রতিবেদক, মরিগাঁও।
বরাক তরঙ্গ, ৬ এপ্রিল : মরিগাঁও জেলার ভেলৌগুড়ি থানার অন্তর্গত ভজাইখাইটিতে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক নৌদুর্ঘটনা। সোমবার দুপুরে যাত্রীবোঝাই নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে নিখোঁজ হন তিনজন।এর মধ্যে ৩৫ বছরের আইনুল হকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। নিখোঁজ রয়েছেন ১৫ বছর বয়সী কিশোর মুবাশ্বের আহমেদ ও ৭০ বছর বয়সী ওয়াহেদ আলি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বৃহত্তর অঞ্চলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভজাইখাইটির ব্রহ্মপুত্র নদীর ঘাট অভিমুখে যাত্রা করার পর হঠাৎ করেই নৌকাটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। যার ফলে যাত্রিদের মধ্যে হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হন। চিৎকার আর হৈচৈয়ের মধ্যে স্থানীয় জনতার তৎপরতায় ১৭ জন পুরুষ ও মহিলা যাত্রী কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে ফিরেন। তবে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ দুই জনের কোনও সন্ধান মেলেনি। এই দুর্ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। ব্রহ্মপুত্রের জলে এসডিআরএফ বাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধানে রাত অবধি অভিযান চালিয়ে আইনুল হকের মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে খবর লেখা পর্যন্ত বাকী দুইজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত পরিমাণে মেশিনচালিত নৌকা নাথাকায় বিপদজনক ভাবে ছোট প্রকারের হাত নৌকা ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। প্রত্যেকটি যাত্রীবাহী নৌকায় যাত্রীদের সুরক্ষায় ল্যাইফ জ্যাকেট প্রয়োজনীয় যদিও ওই অঞ্চলের অধিকাংশ নৌকায় এইধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ওই অঞ্চলে বেশিরভাগ যাত্রীবাহী নৌকার পঞ্জীয়ন ও বীমার কোনো ধরনের কাগজ পত্র ছাড়ায় অবৈধভাবে যাত্রী নিয়ে চলাচল করার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় জনতার অভিযোগ, কোনও জায়গায় বড়সড় দুর্ঘটনা সংগঠিত হওয়ার পর প্রশাসনে ব্যবস্থা নেন যদিও কয়েকদিনের পর আগের মত করেই বিপদসংকুল ভাবে যাত্রীবাহী নৌকার চলাচল অব্যাহত থাকে। অবৈধভাবে নৌকা চলাচল ও যাত্রীদের জীবন সুরক্ষার জন্য মরিগাঁও জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে এই সম্পর্কে পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছে স্থানীয় সচেতন মহলে। এদিকে, লাহরিঘাট সমজেলা কমিশনার শিল্পিকা কলিতা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় জনতার সঙ্গে পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করেন।



