মরাণের রাজপথে যুদ্ধাবস্থার আবহ, নামছে একের পর এক যুদ্ধবিমান

১৪ ফেব্রুয়ারি ইএলএফ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বরাক তরঙ্গ, ১২ ফেব্রুয়ারি : প্রধানমন্ত্রী আগমনের প্রাক্কালে মরাণের নবনির্মিত চারলেন সড়কে তৈরি হয়েছে যুদ্ধকালীন পরিবেশ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই একের পর এক যুদ্ধবিমান উড়ান ও অবতরণের মহড়ায় অংশ নেয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রথম জরুরি অবতরণযোগ্য এয়ার ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (ইএলএফ)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। তার আগে বায়ুসেনা চূড়ান্ত মহড়া সম্পন্ন করেছে।

মরাণের জটিয়নীতে নবনির্মিত ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ চারলেন সড়কে তৈরি হয়েছে এই ইএলএফ, যেখানে জরুরি পরিস্থিতিতে বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান অবতরণ করতে পারবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী দিল্লি থেকে সরাসরি ডিব্রুগড়ের চাবুয়ার বায়ুসেনা ঘাঁটিতে পৌঁছবেন। সেখান থেকে বিশেষ বিমানে মোরানের রানওয়েতে অবতরণ করবেন তিনি এবং প্রায় আধঘণ্টা সেখানে অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকাকালীন রাফেল, সুখোই, মিগ এবং কার্গো এয়ারক্রাফটসহ মোট ১৬টি যুদ্ধবিমান সড়কে অবতরণ করবে এবং আকাশপথে কৌশল প্রদর্শন করবে। বুধবার থেকেই বায়ুসেনা এই সড়কে অবতরণ ও উড্ডয়নের মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত মহড়ায় একাধিক যুদ্ধবিমানকে সড়কে নামতে এবং আকাশে যুদ্ধকৌশল অনুশীলন করতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। রানওয়েতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করার জন্য সাধারণ মানুষের দেখার ব্যবস্থাও প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক চক্ৰধর গগৈ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী চিন্তাধারার ফলেই আজ রাজপথে যুদ্ধবিমান অবতরণ সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, একসময় যেখানে ট্রাক্টর চালাতেও সমস্যা হতো, আজ সেখানে যুদ্ধবিমান নামছে—এটি উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে অসম দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে এবং বিজেপি সরকার থাকলে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *