মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১০ মার্চ : শ্রীভূমি জেলায় ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার এই দুটি প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন শ্রীভূমি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি তথা অসম সরকারের মীন, পশুপালন ও পশুচিকিৎসা, মৎস্য এবং পূর্ত দপ্তরের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।
জানা গেছে, প্রথম প্রকল্পটি শ্রীভূমি জেলা ক্রীড়া সংস্থার অবকাঠামো উন্নয়নের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ, যার জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন পরিকাঠামো উন্নয়ন, খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জেলার প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং ভবিষ্যতে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও ডিএসএ প্লেগ্রাউন্ডে ফেন্সিং ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পটি DMFT ফান্ড ২০২৫–২৬-এর অধীনে বাস্তবায়িত হবে। এর মূল লক্ষ্য মাঠের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, সীমানা নির্ধারণ এবং খেলোয়াড়দের জন্য একটি সুরক্ষিত ও উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা। মঙ্গলবার রাতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীভূমি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা, বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিরা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং অসংখ্য ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, শ্রীভূমি জেলার ক্রীড়া প্রতিভা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সঠিক সুযোগ-সুবিধা পেলে এখানকার খেলোয়াড়রা রাজ্য ও জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করবে এবং সমাজে সুস্থ ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে শ্রীভূমি জেলায় ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য আরও বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে, যাতে জেলার খেলোয়াড়রা উন্নত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাথারকান্দি ব্লকের এই জয়নুল হক চৌধুরী এবং পূর্ত (ভবন) বিভাগের শ্রীভূমি জেলার ইঞ্জিনিয়ার ভীমান চন্দ্রসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় জেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন গতি সঞ্চার হবে।



