বরাক তরঙ্গ, ২৮ ফেব্রুয়ারি : জাতীয় বিজ্ঞান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে, গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ এ বছরের থিম “নারী ও বিজ্ঞান-বিকশিত ভারত গঠনে প্রেরণা”–কে কেন্দ্র করে একাধিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। “দৈনন্দিন জীবনে নারী ও বিজ্ঞান” শীর্ষক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতাটি প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিস চন্দ্রমিতা বড়োর তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ইন্দিরা দে। ছবির স্বতন্ত্রতা ও ভাবনার উপস্থাপনার ভিত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হয়। এছাড়াও “She Leads, She Discovers, She Inspires” শীর্ষক পোস্টার নির্মাণ প্রতিযোগিতা প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিস নজরানা সুলতানা বেগমের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন ছাত্রকল্যাণ ডিন ও রসায়ন বিভাগের প্রধান ড. জয়দীপ পাল। বিজ্ঞান দিবসের সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে “Her ‘Science’ Legacy: Discoveries and their Untold Stories” শীর্ষক একটি মৌখিক উপস্থাপনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মোট ছয়টি ছাত্রদল এতে অংশগ্রহণ করে।
বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপিকা ড. দীপা নাথ, ছাত্রকল্যাণ ডিন ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জয়দীপ পাল ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিজয় ব্রহ্ম।
দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘Participation of Women in STEM: Challenges and Opportunities’ শীর্ষক একটি আমন্ত্রিত বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। বক্তৃতাটি প্রদান করেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপিকা ড. ইয়াসমিন চৌধুরী। বিশিষ্ট অতিথিদের দ্বারা প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. দেবীপ্রীতা দত্ত। তিনি বিজ্ঞান দিবসের তাৎপর্য ও এ বছরের থিমের উপর আলোকপাত করেন।
অ্যাকাডেমিক কো-অর্ডিনেটর (বিজ্ঞান) এর ড. নীলেন্দু ধর বাস্তব জীবনে বিজ্ঞানে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং উল্লেখ করেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শাখার ছয়টি বিভাগের প্রধানই নারী শিক্ষক। গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ, শিক্ষার্থীদের ম্যারি কুরি, জানকী আম্মাল এবং আশিমা চট্টোপাধ্যায়ের জীবন সম্পর্কে পড়াশোনা করতে অনুপ্রাণিত করেন।
গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর নিরঞ্জন রায় ভারতের প্রাক্-স্বাধীনতা যুগ ও তার পূর্ববর্তী সময়ে নারীদের বিজ্ঞানে অবদানের কথা উল্লেখ করেন। লীলাবতী নামে খ্যাত গণিতবিদ থেকে শুরু করে রসায়নবিদ আশিমা চট্টোপাধ্যায়, পদার্থবিজ্ঞানী বিভা চৌধুরী এবং বর্তমান সময়ের নারী বিজ্ঞানীদের অবদান তুলে ধরে তিনি ‘বিকশিত ভারত’ গঠনে নারীদের ভূমিকার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন। ড. ইয়াসমিন চৌধুরীকে শ্রোতৃমণ্ডলীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্রী মিস স্বর্ণা দেব।
আমন্ত্রিত বক্তৃতায় ম্যাডাম চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, ভারতে কন্যাশিক্ষার ক্ষেত্রে স্কুল স্তরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে; তবে সেই অনুপাত কর্মক্ষেত্রে প্রায়শই প্রতিফলিত হয় না। তিনি বলেন, যথাযথ সরকারি উদ্যোগ ও বিভিন্ন প্রকল্প—যেমন STEM, বিজ্ঞান জ্যোতি (Vigyan Jyoti), WISE-KIRAN, গতি (GATI), এবং SERB POWER—এর মাধ্যমে ভারতে বিজ্ঞানে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন এবং তাঁদের স্বপ্ন অনুসরণ করতে, সংগ্রামকে ভয় না পেতে, নিজের ভেতর থেকে প্রেরণা খুঁজে নিতে এবং নিজের আগ্রহের ক্ষেত্রে উৎকর্ষ অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করেন।এরপর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের টিচিং আ্যসিস্টেন্ট ড. পূবালী দে।
এরপর ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিজয় ব্রহ্ম। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র মি. প্রতীক ভট্টাচার্য। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।



