৭ এপ্রিল : মঙ্গলবার সাতসকালে সৌদি আরবের বৃহত্তম শিল্প নগরী আল জুবাইল ভয়াবহ হামলা ইরানের। মিসাইল ও ড্রোন বৃষ্টির মত ঝরে পড়ে আল জুবাইলের আকাশ থেকে। এই এলাকা বড় বড় পেট্রোকেমিক্যাল ও জ্বালানি সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই হামলার জেরে ইতিমধ্যেই চলা আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ না ছাড়ে, তবে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হতে পারে। পালটা ইরানও অন্য দেশের জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে।
ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণের পর জুবাইল শিল্পাঞ্চলে বড় আগুন জ্বলছে। প্রায় ১,০০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে থাকা এই এলাকায় ১৫০-র বেশি শিল্প ইউনিট রয়েছে। সৌদি আরবের জিডিপির প্রায় ৭ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগের প্রায় অর্ধেক এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের দিকে ছোড়া ৭টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ভূপাতিত করা হয়েছে। কিছু ধ্বংসাবশেষ জ্বালানি স্থাপনার কাছে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ট্রাম্প আবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৭ এপ্রিল রাত ৮টা মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা হতে পারে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘উদ্ধত ভাষণ’ বলে কড়া সমালোচনা করেছে ইরান। দেশের যুবসমাজ, বিশেষ করে ক্রীড়াবিদ, শিল্পী ও ছাত্রদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির চারপাশে জড়ো হয়ে মানববন্ধন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, সপ্তাহান্তে কুয়েত, বাহরিন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ইরানের হামলা দেখিয়েছে, দাবি সত্ত্বেও তাদের মিসাইল ও ড্রোন ক্ষমতা এখনও সক্রিয় রয়েছে।



