RTI করলেই আর মিলবে না সবকিছু? নথি ‘গোপন’ রাখতে আইন পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব মোদি সরকারের

৩০ জানুয়ারি : RTI তথা তথ্যের অধিকার আইন নতুন করে খতিয়ে দেখতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ হওয়া আর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। সেখানে বলা হয়েছে, গোপন রিপোর্ট, খসড়া পর্যবেক্ষণ কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের গোপন আলোচনা জনসমক্ষে প্রকাশ না করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কারণ, এর ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাধা তৈরি হচ্ছে।

২০০৫ সালে UPA জমানায় তৈরি হয়েছিল তথ্যের অধিকার আইন। প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু দাবি, এই আইন ক্রমশ সাধারণ কৌতূহল নিরসনের ‘অস্ত্র’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি কাজকে প্রাভাবিত করার জন্য এই আইনকে ব্যবহার করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই বেশ কিছু নথিপত্রকে তথ্যের অধিকার আইনের আওতার বাইরে রাখা হতে পারে।

অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, প্রায় সমস্ত খসড়া বা আলোচনার তথ্য প্রকাশ্যে আনার কারণে সরকারি আধিকারিকরা খোলাখুলি মত প্রকাশে ভয় পাচ্ছেন। তাই এই পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন বলে সমীক্ষা রিপোর্টে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, তথ্যের অধিকার আইন নতুন করে তৈরি হলে, শুধু মাত্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই RTI মারফত জানানো হতে পারে। বাকি সবকিছুই গোপন রাখা হবে।

শুধু ভারতে নয়, ১৯৬৬ সালে আমেরিকা এবং ২০০০ সালে ব্রিটেনও তথ্যের অধিকার আইন চালু করেছিল। কিন্তু পরে এই আইন আনার জন্য আফসোস করেছিলেন প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গোপন রাখতে না পারলে, আপনি সরকার চালাতে পারবেন না।’ ২০১২-১৩ সালে অনেকটা একই সুরে তথ্যের অধিকার আইন পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছিল হাউস অফ কমন্স জাস্টিস কমিটি। লোকসভায় পেশ করা অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে সেই প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছু বিষয়ে গোপন রাখতে পারলে তবেই প্রকৃত অর্থে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *