ইছাবিল চা-বাগানে নবনির্মিত শিব মন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা, মহোৎসবে সামিল মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৮ মার্চ : পাথারকান্দি কেন্দ্রের অন্তর্গত লোয়াইরপোয়া ব্লকের ইচাবিল চা-বাগান বুধবার মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের উপস্থিতিতে যেন এক অনন্য ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আবহে মোড়ানো ছিল। নবনির্মিত সর্বজনীন শিব মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা উৎসবকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে এলাকাজুড়ে ছিল ভক্তি, শ্রদ্ধা এবং আনন্দের এক অপূর্ব মিলনমেলা। পাঁচদিনব্যাপী এই মহোৎসবের শেষ দিনে বুধবার কেন্দ্রের বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল ইছাবিলে উপস্থিত হয়ে এই ভব্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।মন্ত্রী মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছাতেই উৎসব আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি মেনে তার ললাটে তিলক এঁকে, ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। চারিদিকে তখন ভক্তদের ভজন, কীর্তন এবং “হর হর মহাদেব” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র পরিবেশ।

এরপর মন্ত্রী যথাযোগ্য মর্যাদায় দেবাদিদেব মহাদেবের পূজার্চনা করেন। আরতির মাধ্যমে ভগবান শিবের শ্রীচরণে ভক্তি নিবেদন করে তিনি নিজের কেন্দ্রের পাশাপাশি গোটা রাজ্যের মানুষের কল্যাণ কামনা করেন। তিনি প্রার্থনা জানান—সবার উপর যেন মহাদেবের অশেষ কৃপা বর্ষিত হয় এবং সমাজে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে।বিকালে অনুষ্ঠিত ভাগবত ও শিবপুরাণ পাঠের আসরেও মন্ত্রী অংশগ্রহণ করেন। সুদূর বৃন্দাবন থেকে আগত প্রখ্যাত কথাবাচক ব্রিজকিশোরীকে তিনি প্রণাম জানিয়ে তার ধর্মীয় বাণী প্রচারের এই মহান উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ভজন ও কীর্তনের মাধ্যমে যে সনাতনী সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল তার বক্তব্যে বলেন, এই নবনির্মিত শিব মন্দির শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং এটি ভবিষ্যতে স্থানীয় এলাকার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শকের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ধর্মচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এটি মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করে, মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।এদিন ইছাবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের সভানেত্রী সবিতা কুর্মি এবং মন্দির পরিচালন কমিটির কর্মকর্তারা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, বহু প্রাচীন এই শিব মন্দিরটি আজ নতুন রূপে গড়ে ওঠায় সমগ্র এলাকার ধর্মীয় ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। তাঁরা আরও বলেন, ইচাবিল চা বাগান এলাকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই মন্দির।পাঁচ দিন ধরে চলা বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, যজ্ঞ, ভজন-কীর্তন ও পুরাণ পাঠের মধ্য দিয়ে এই মহোৎসব এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভক্তদের ব্যাপক সমাগমে প্রতিদিনই মুখরিত ছিল মন্দির প্রাঙ্গণ।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগর পরিক্রমার মাধ্যমে এই মহোৎসবের শেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিশেষ পূজার্চনা ও মহাভিষেকের মাধ্যমে পাঁচদিনব্যাপী এই পবিত্র অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে। সবশেষে, মন্দির পরিচালন কমিটির পক্ষ থেকে বৃহত্তর পাথারকান্দি এলাকার সকল সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই নবনির্মিত শিব মন্দিরে এসে দর্শন ও পূজা করার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে। এই মহোৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি সমাজের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং আধ্যাত্মিক চেতনার এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *