মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৩০ নভেম্বর : পাথারকান্দি রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রয়াত হলেন এলাকার অন্যতম প্রবীণ ও সম্মানীয় রাজনীতিবিদ, অসম গণ পরিষদের প্রাক্তন সহ-সভাপতি নব রাজকুমার ওরফে মনু সিং। শনিবার গভীর রাতে আনুমানিক দেড়টা নাগাদ শ্রীভূমি জেলা অসামরিক হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
নব রাজকুমার গত বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গতকাল সন্ধ্যার দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবার-পরিজনেরা তড়িঘড়ি তাঁকে শ্রীভূমি জেলা অসামরিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে তাঁর প্রয়াণ ঘটে। মৃত্যুর পর রাতেই তাঁর মরদেহ পাথারকান্দি স্টেশন সংলগ্ন নিজ বাড়িতে আনা হয়। আজ সকাল থেকে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ, রাজনৈতিক মহল, সামাজিক সংগঠন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছুটে যান তাঁর শেষ দর্শন ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ সঞ্জীব দেবনাথ প্রয়াতের বাড়িতে এসে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন নব রাজকুমারের মতো বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক ব্যক্তিত্ব হারিয়ে পাথারকান্দি আজ শোকস্তব্ধ। সত্তর ও আশির দশকে তিনি রাজনীতির ময়দানে অসাধারণ প্রজ্ঞা, সাহস ও নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর অবদান পাথারকান্দির রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে নব রাজকুমার পাথারকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি চারবার বৃহত্তর পাথারকান্দি কেন্দ্র থেকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। গণআন্দোলন থেকে শুরু করে স্থানীয় উন্নয়ন সর্বত্রই তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নব রাজকুমার শুধু নিজেই সক্রিয় ছিলেন না; তাঁর নেতৃত্বে রাজনীতিতে উঠে আসেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। তাঁর সহধর্মিণী তেজিমালা রাজকুমারী এবং কনিষ্ঠ পুত্র রাজু রাজকুমার উভয়েই পাথারকান্দি জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই পাথারকান্দির সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষেত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ নাম।
মৃত্যুকালে নব রাজকুমার রেখে গেছেন স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যা, নাতি-নাতনি সহ অসংখ্য গুণমুগ্ধ ও শুভাকাঙ্ক্ষী। আজ দুপুরে তাঁর মরদেহ নিয়ে এক বিশাল শোকযাত্রার মাধ্যমে শহর পরিক্রমা করা হয়। এরপর স্থানীয় বাগাডহরে পূর্ণ মর্যাদায় সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃত্য।



