বরাক তরঙ্গ, ২৪ জানুয়ারি : প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় সাফল্য পেল আসাম রাইফেলস। মণিপুরের ফেরজল জেলায় জিরিবাম–টিপাইমুখ সড়কে এক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযান চালানো হয় আসাম রাইফেলস ও মণিপুর পুলিশের যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত একটি মোবাইল ভেহিকল চেক পোস্টে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহজনক একটি গাড়িকে থামানোর চেষ্টা করলে তাতে থাকা দুষ্কৃতীরা গাড়িটি ফেলে রেখে পালানোর চেষ্টা করে। তবে আসাম রাইফেলসের জওয়ানরা দ্রুত ধাওয়া চালিয়ে দু’জনকে আটক করতে সক্ষম হন। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩০টি জিলটিন স্টিক, ২০টি ডিটোনেটর, সেফটি ফিউজ, ফ্লেক্সিবল তার, একটি বোলেরো গাড়ি এবং প্রায় ১ লক্ষ টাকা নগদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, উদ্ধার হওয়া এই বিস্ফোরক সামগ্রী সাধারণত ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির কারণ হতে পারে। ফলে এই উদ্ধারকে বড়সড় নাশকতার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করার সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আসাম রাইফেলসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জিরিবাম ও সংলগ্ন এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। বাহিনীর এক আধিকারিক বলেন, অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা যারা করবে, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না। ইতিমধ্যেই যেসব দুষ্কৃতী চিহ্নিত হয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে অশান্তির ঘটনা ঘটার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা বাহিনীর এই সক্রিয় ভূমিকা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা জুগিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও আসাম রাইফেলস ও পুলিশের এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার ফলেই এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের আরও নিরাপদ বোধ করছেন। এই ঘটনায় আটক দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের উৎস ও সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে আরও গ্রেফতার করা হতে পারে।



