বরাক তরঙ্গ, ৯ ফেব্রুয়ারি : অসম সরকারের উদ্যোগে জেলার বর্ণিব্রিজ চা-বাগানে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে চা-শ্রমিক পরিবারগুলোর হাতে জমির পাট্টা তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করেও ভূমির বৈধ স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত থাকা শতাধিক পরিবার এই উদ্যোগে উপকৃত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এটি চা-শ্রমিক সমাজের জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বর্তমান আসাম সরকার সমাজের প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একাধিক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। চা-শ্রমিকদের বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। জমির পাট্টা প্রদান সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই অংশ। বক্তাদের মতে, মাটির কর্তা শুধুমাত্র একটি সরকারি দলিল নয়—এটি চা-শ্রমিক পরিবারগুলোর আত্মমর্যাদা, স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার প্রতীক। এর ফলে উপকৃত পরিবারগুলো নিজ নিজ বাসভূমির উপর আইনগত অধিকার লাভ করবেন এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণে আরও সহজ হবে।
এদিন পাট্টা প্রাপ্ত পরিবারগুলোর মুখে ছিল আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার হাসি। তারা সরকারের এই মানবিক পদক্ষেপের জন্য মুখ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক চা-শ্রমিক পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে এবং সকলকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে আসাম।
উল্লেখ্য, হাইলাকান্দি জেলার বাগান শ্রমিকদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার পরিবারগুলোর সংখ্যা হলো আয়নারখালে ১৭২০পরিবার, বন্দুক মারায় ১৫০ পরিবার, পরিবার, চণ্ডিপুর ১০১৫, কাটলিছড়ায় ২৭২ পরিবার ধলাই বাগানে ৬৪৭ পরিবার, কৈয়া বাগানে ২১০৫ পরিবার, কাঞ্চনপুর বাগানে ৮৫০ পরিবার, লালছড়া বাগানে ৯৫১পরিবার, লালামুখ বাগানে ৬২৪ পরিবার, মণিপুর বাগানে ৪১৭ পরিবার. নরসিংপুর বাগানে ১২৪৫ পরিবার, রূপাছাড়া বাগানে ৫০০ পরিবার, শিরিশপুর বাগানে ৭০১ পরিবার, সাউথ কাছাড় বাগানে ৪১৭পরিবার, সুলতানছড়ায় ১২৩ পরিবার এবং বার্নারপুরে ৩৩৬টি পরিবার রয়েছে।



