১৪ মার্চ : অবশেষে দীর্ঘ ছয় মাসের বন্দিদশা কাটিয়ে মুক্তি পাচ্ছেন লাদাখের প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা আইনে সোনমকে আর আটক রাখা হবে না। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে রাজস্থানের যোধপুর জেলে বন্দি ছিলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলা চলাকালীনই কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সোনম ওয়াংচুককে আটক করেছিল কেন্দ্র। সরকারের অভিযোগ ছিল, তিনি ‘অশান্তিতে মদত’ দিচ্ছেন এবং নেপাল বা বাংলাদেশের মতো এ দেশেও তরুণ প্রজন্মকে (জেন-জি) সংগঠিত করে সর্বাত্মক বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছেন। তবে সোনমের স্ত্রীর দাবি ছিল, তাঁর বক্তৃতার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে সোনমের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, লাদাখে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সমঝোতার পরিবেশ বজায় রাখতেই সোনম ওয়াংচুকের আটকাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র চায় লাদাখের সমস্ত পক্ষের সঙ্গে একটি ‘গঠনমূলক আলোচনা’ শুরু করতে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বন্ধ বা বিক্ষোভের ফলে লাদাখের পর্যটন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, যা শান্তিপূর্ণ সমাজের পক্ষে কাম্য নয়। সোনমের এই মুক্তি লাদাখের স্বায়ত্তশাসন এবং ষষ্ঠ তফশিলভুক্ত করার আন্দোলনকে নতুন কোনো মোড় দেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।



