মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৪ ফেব্রুয়ারি : দীর্ঘদিনের আতঙ্কের অবসান ঘটিয়ে পাথারকান্দি শহর ও তাপাদারপাড়া এলাকাকে লঙ্গাই নদীর ভয়াবহ ভাঙনের হাত থেকে স্থায়ী সুরক্ষা দিতে এক বড় ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। জলসম্পদ বিভাগের অধীনে ১০ কোটি টাকার ভাঙন-রোধ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক শিলান্যাসের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন দিশা দেখাল বর্তমান সরকার, যা বর্ষা এলেই নদী ভাঙনের শঙ্কায় থাকা হাজার হাজার মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এতে ভারত-বাংলা সীমান্ত ঘেঁষা প্রান্তিক পাথারকান্দি শহর ও তাপাদারপাড়া এলাকাকে লঙ্গাই নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবল থেকে চিরস্থায়ী সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে বর্ষা এলেই নদী ভাঙন নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটানো স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এ যেন এক স্বস্তির খবর।
বুধবার পাথারকান্দি শহরের ভিতরবাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য ও জনসমাগমপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জলসম্পদ বিভাগের অধীনে লঙ্গাই নদীর তীর ভাঙন-রোধ প্রকল্পে ১০ কোটি টাকার কাজের আনুষ্ঠানিক শিলান্যাস করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল। সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল আজ পাথারকান্দি ভিতর বাজার সংলগ্ন এলাকায় সার্কল অফিসার অদিতি নুনিসা সহ জলসম্পদ বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। শিলান্যাস পর্ব শেষে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বর্ষা এলেই লঙ্গাই নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেলে এই এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হত। স্থানীয় মানুষের মনে এক অজানা আতঙ্ক কাজ করত। বিষয়টি আমাকে বারবার উদ্বিগ্ন করেছে। মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল আরও জানান, এই গুরুতর সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন এবং নদীভাঙন রোধে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আগামী দু-একদিনের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে মন্ত্রী বলেন, নদী বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় যারা অবৈধভাবে বসবাস করে আসছেন, তাঁরা যেন স্বেচ্ছায় সেখান থেকে সরে যান। কারণ এই জমি সম্পূর্ণভাবে সরকারি জমি। অন্যথায় জলসম্পদ বিভাগ আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল অতীতের কংগ্রেস শাসনামলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “একসময় কংগ্রেসের আমলে পাথারকান্দির প্রতিটি কোণায় কোণায় শুধু অবহেলা আর উন্নয়নের বেহাল ছবি চোখে পড়ত। আর আজ বিজেপি সরকারের আমলে সর্বত্র শুধু উন্নয়ন আর উন্নয়ন। উপস্থিত প্রায় পাঁচ শতাধিক সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এখনও সেই দলের কিছু স্থানীয় দালাল ও চামচা বিজেপি সরকারের লাগামহীন উন্নয়ন দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। নির্বাচন সন্নিকটে উল্লেখ করে তিনি সাধারণ মানুষকে এই ধরনের প্রতারক দল ও ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।
এই ভাঙন-রোধ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাথারকান্দি শহর ও তাপাদারপাড়া এলাকার হাজার হাজার মানুষ নদী ভাঙনের ভয় থেকে স্থায়ী মুক্তি পাবেন বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনসাধারণ সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী ও রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।



