মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৫ এপ্রিল : পাথারকান্দির বাজার এলাকায় রবিবার সন্ধ্যায় নজিরবিহীন জনসমাগমের সাক্ষী থাকল গোটা অঞ্চল। ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু পালের আগমনকে কেন্দ্র করে বাজার চত্বর কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। চারদিকে মানুষের ঢল, স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ। দলীয় পতাকায় সেজে ওঠা সভাস্থলে যুবক, প্রবীণ, নারী ও প্রথমবারের ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মিছিল ও স্লোগানে মুহূর্তের মধ্যে বাজার এলাকা এক প্রাণবন্ত রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি নির্বাচনী সভা নয়, বরং জনসমর্থনের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরে কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনই তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। গত কয়েক বছরে হওয়া উন্নয়নের ধারাকে আরও ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী কার্তিক সেনার “গুন্ডারাজ” মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এর জবাবে কৃষ্ণেন্দু পাল কংগ্রেস নেতা কার্তিক সেনা সিনহা ও প্রাক্তন বিধায়ক মনিলাল গোয়ালার বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, বিরোধীরা প্রলোভন ও বিভ্রান্তির রাজনীতি করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। সমর্থকদের সতর্ক করে তিনি বলেন, এই ধরনের প্রলোভনে পা না দিতে এবং সচেতন থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দাবি করেন, কংগ্রেস পুনরায় পুরনো শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
বিজেপি শিবির কংগ্রেসের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। পাল বলেন, উন্নয়নের ভাষা যারা বোঝে না, তারাই বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে। তিনি আরও জানান, পাথারকান্দির মানুষ সচেতন এবং সময়মতো সঠিক জবাব দেবেন।
আগামী ৯ এপ্রিল ভোটের দিন ইভিএমে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোট ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। সব মিলিয়ে, পাথারকান্দিতে নির্বাচনী উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং জনসমাগমের এই ঢেউ ভোটের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



