মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৯ এপ্রিল : পাথারকান্দিতে ভোটারদের উৎসাহে আবেগাপ্লুত কার্তিক সেনা সিনহা।গণতন্ত্রের মহোৎসবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল পাথারকান্দি। প্রখর রোদ, দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে বিপুল উৎসাহে ভোটদানে অংশ নিলেন সাধারণ মানুষ। সকাল হতেই বিভিন্ন বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে, যা দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তৃত হয়। নারী, পুরুষ, প্রবীণ এবং প্রথমবারের ভোটার সবাই যেন এক অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে এসেছেন নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে। এই প্রেক্ষাপটে গভীর কৃতজ্ঞতা ও আবেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী কার্তিকসেনা সিনহা।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ধন্যবাদ পাথারকান্দি! আপনাদের এই ভালোবাসা ও আস্থার ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না। আজ যেভাবে আপনারা রোদে পুড়ে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, তা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন কেবলমাত্র একজন প্রার্থীর লড়াই নয়, বরং পাথারকান্দির সম্মান, অধিকার এবং একটি স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। “আজকের এই ভোট পাথারকান্দির মানুষের আত্মসম্মান ও ভবিষ্যতের প্রতিফলন, বলেন তিনি।কার্তিকসেনা সিনহা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান তাঁর দলের কর্মী, পোলিং এজেন্ট এবং অসংখ্য সমর্থকদের প্রতি।
তিনি বলেন, “গত কয়েক মাস ধরে যেভাবে তাঁরা দিনরাত এক করে পরিশ্রম করেছেন এবং ভোটের দিন বুথে বুথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁদের এই ত্যাগ ও নিষ্ঠার ফলেই আমাদের এই লড়াই এতদূর এগিয়েছে। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও তিনি সাধুবাদ জানান। তাঁর মতে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি, এবং সেই দিক থেকে প্রশাসনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এদিন পাথারকান্দির বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে দেখা যায়, মানুষের মধ্যে এক ধরনের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসেন, আবার কেউ কেউ প্রথমবার ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন উচ্ছ্বাসের সঙ্গে। এই সার্বিক চিত্রই প্রমাণ করে যে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা আজও অটুট।
সবশেষে কার্তিক সেনা সিনহা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এখন শুধু ফলাফলের অপেক্ষা। তিনি বিশ্বাস করেন পাথারকান্দির মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই এখানে এক নতুন ভোরের সূচনা হবে। পাথারকান্দির এই অভূতপূর্ব ভোটার উপস্থিতি ও উৎসাহ রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উচ্চ ভোটার উপস্থিতি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



