জেলা নির্বাচন আধিকারিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ, স্মারকপত্র প্রদান করিমগঞ্জ কংগ্রেসের

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২০ জানুয়ারি : গোটা অসম রাজ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈর নির্দেশে করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস মঙ্গলবার জেলা নির্বাচন আধিকারিক রওশনাল আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জেলার বিভিন্ন পোলিং স্টেশনে সাধারণ ভোটারদের ভোট কর্তনের অভিযোগ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে। জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি স্মারকপত্র জমা দিয়ে অভিযোগ করা হয় যে, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ ও নিরীহ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, যা সরাসরি গণতন্ত্রের উপর আঘাত।স্মারকলিপিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব উল্লেখ করে যে, ভোটাধিকার হরণ করার এই অপচেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ না হলে জেলা কংগ্রেস চুপ করে বসে থাকবে না। প্রয়োজনে সারা রাজ্য জুড়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলনে নামতে তারা বাধ্য হবে বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এ উপলক্ষে করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে বলেন,আমাদের কাছে প্রতিদিন যে সব তথ্য ও অভিযোগ আসছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও আতঙ্কজনক। বহু বুথ লেভেল অফিসারকে (BLO) ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কিছু অসাধু নির্বাচনী আধিকারিক এবং শাসক দলের ঘনিষ্ঠ লোকজন প্রতিটি বুথে প্রায় শতাধিক সাধারণ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে।

তিনি আরও বলেন, যদি এই অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে কংগ্রেস কোনোভাবেই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার। সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনও অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কংগ্রেস সর্বশক্তি নিয়ে রুখে দাঁড়াবে। জেলা কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচন আধিকারিককে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন, আজ আমরা আপনাকে স্মারকলিপির মাধ্যমে বিষয়টি জানালাম। কিন্তু এরপরও যদি ভোট কর্তনের মাধ্যমে জেলার নিরীহ মানুষদের হয়রানি করা হয়, তবে আগামী দিনে প্রশাসনকে ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। প্রতিদিন আমাদের কাছে ভোট চুরির অভিযোগ আসছে। সময় যত এগোচ্ছে, ততই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে কোথাও না কোথাও বড় ধরনের গরমিল ঘটছে।এদিন জেলা কংগ্রেসের সহসভাপতি শ্রী বিশ্বজিৎ ঘোষ উত্তর করিমগঞ্জের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন,উত্তর করিমগঞ্জের একাধিক এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের নাম ছাঁটাই করার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এর তদন্ত দাবি করছি।

অন্যদিকে, করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের আহ্বায়ক  সাহাদত আহমদ চৌধুরী রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন,আজ আসাম ঋণে জর্জরিত। রাজ্যের রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল, নল আছে কিন্তু জল নেই, বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র অভাব সর্বত্র। হাজার হাজার শিক্ষিত যুবক আজ বেকার হয়ে ঘরে বসে আছে। রাজ্য সরকার প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে ঋণ নিচ্ছে, যার বোঝা এসে পড়ছে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে।”

তিনি আরও বলেন,ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় লাটে উঠেছে, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। এর মধ্যেই গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো ভোট চুরির অভিযোগ সামনে আসছে। এতে জনগণের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে যে কোনো দিন সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যেতে পারে।এদিন জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি পাঠ করেন প্রশাসনিক সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রদীপ কুরি।এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ শহর ব্লক কংগ্রেস সভাপতি অনুরাগ দত্ত, অহীররঞ্জন দে, ধ্রুবজ্যোতি দাস, রাজন চৌধুরী, ভরত রাউত সহ জেলা ও ব্লক স্তরের একাধিক কংগ্রেস নেতা-কর্মী।শেষে জেলা কংগ্রেস স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, গণতন্ত্র রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখতে কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে এবং কোনও ষড়যন্ত্রকেই সফল হতে দেবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *