মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১০ ফেব্রুয়ারি : রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজেপির লাগাতার আক্রমণ ও কুৎসা-রাজনীতির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানাল করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ গৌরব গগৈকে কেন্দ্র করে বিজেপির একের পর এক মন্তব্য ও আন্দোলনকে জনবিচ্ছিন্ন ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিল—বিজেপি যতই গৌরব গগৈকে নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা করুক না কেন, তাতে আগামী নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসই আরও শক্তিশালী হবে।
করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান সাহাদত আহমদ চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন, বিজ্ঞাপন নির্ভর এই বিজেপি সরকারের ঝুলিতে দেখানোর মতো কোনও উন্নয়নমূলক কাজ নেই। রাজ্যের মানুষের প্রকৃত সমস্যা নিয়ে ভাবার সময় নেই তাঁদের। কে কী খাচ্ছে, কে কী পরছে—এইসব তুচ্ছ বিষয় নিয়েই বিজেপির মাথাব্যথা। অথচ বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। রাজ্যের ঠিকাদাররা কাজ শেষ করেও মাসের পর মাস নিয়মিত পেমেন্ট পাচ্ছেন না। ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। সর্বত্র সিন্ডিকেট রাজ কায়েম হয়েছে। সাধারণ মানুষ দিশেহারা। এইসব জ্বলন্ত সমস্যা সমাধানের কোনও সদিচ্ছা না দেখিয়ে বিজেপি নেতারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন গৌরব গগৈর বিরুদ্ধে। সাহাদত চৌধুরীর ভাষায়, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক। তিনি বলেন, বিজেপির বন্ধুদের স্পষ্ট করে বলতে চাই—আপনাদের ইশারাতেই আজ রাজ্যের প্রশাসন চলছে। কেন্দ্রে ও রাজ্যে আপনাদেরই সরকার। যদি গৌরব গগৈ কোনও অপরাধ করে থাকেন, তবে দেশের আইন ও আদালত আছে। সেখানে গিয়ে প্রমাণ করুন। শুধুমাত্র সাংবাদিক সম্মেলন করে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে কারও ভাবমূর্তি নষ্ট করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণই গণদেবতা। জনগণ সব দেখছে, সব বোঝে। আপনাদের ছলচাতুরী, প্রতিশোধমূলক রাজনীতি আর বিভাজনের খেলাও জনগণের চোখ এড়াচ্ছে না। জনগণ আপনাদের সরকার গঠনের অনুমতি দিয়েছিল তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য, উন্নয়নের জন্য, সমস্যার সমাধানের জন্য। কিন্তু এই সরকার সেই দায়িত্ব ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র প্রতিহিংসার রাজনীতিতে মেতেছে।
আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সাহাদত চৌধুরী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যে কংগ্রেস সরকার গঠিত হবে গৌরব গগৈর নেতৃত্বে। সেই দিন থেকেই প্রকৃত অর্থে আমজনতার জয় শুরু হবে। জনগণের দুয়ারে জনগণের সরকার পৌঁছাবে।
এদিকে, পৃথক বিবৃতিতে করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থও কড়া ভাষায় মন্ত্রী কৌশিক রায়কে সতর্ক করে বলেন, বরাক উপত্যকা শান্তির দ্বীপ। এখানে পশ্চিমবঙ্গ বা ত্রিপুরার রাজনীতি আমদানি করার চেষ্টা করবেন না। প্রতিশোধের রাজনীতি করতে হলে উত্তরপ্রদেশে গিয়ে করুন, বরাক উপত্যকায় নয়। তাপস পুরকায়স্থ আরও বলেন, গৌরব গগৈ আগামী দিনে বরাক উপত্যকায় আসবেন, এবং আমরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবো। যদি কেউ তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তা হিতে বিপরীত হবে। আর এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যা কেউ সামলাতে পারবে না। তিনি মন্ত্রী কৌশিক রায়কে আগুন নিয়ে না খেলতে স্পষ্ট ভাষায় পরামর্শ দেন।



