নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সকাশে সাংসদ
বরাক তরঙ্গ, ৩ ফেব্রুয়ারি : বরাক উপত্যকায় হস্তশিল্প উন্নয়ন কমিশনার কার্যালয়ের মার্কেটিং (বিপণন) এবং সার্ভিস (পরিষেবা) সেন্টার স্থাপনে তৎপর রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং সকাশে গিয়ে এবিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। বলেন, বরাক উপত্যকার তিন জেলা কাছাড়, শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দিতে বাঁশ ও বেতের কাজ, তাঁত-সংযুক্ত কারুশিল্প, কাঠ খোদাই, মৃৎশিল্প, টেরাকোটা, আসবাবপত্র, জল-কুয়াশা কারুশিল্প, কাঁথা সেলাই এবং আদিবাসী শিল্পের মতো ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অগণিত দক্ষ কারিগর। এতদঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং কারুশিল্প থাকা সত্ত্বেও নকশা উন্নয়ন, বিপণন সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারজাতকরণে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ব্যবস্থা নেই। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবে ধুঁকছে এতদঞ্চল। যদিও বরাকে এমন কিছু পণ্য রয়েছে যার আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ চাহিদা রয়েছে।
এপ্রসঙ্গে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ উল্লেখ করেন যে হস্তশিল্প উন্নয়ন কমিশনারের গুয়াহাটিতে একটি আঞ্চলিক অফিস এবং যোরহাট ও গৌরীপুরে দুটি কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু বরাক উপত্যকা থেকে সেখানে পৌঁছাতে হলে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। ফলে দুস্থ, প্রবীণ শিল্পীদের যোরহাটে যাতায়াত করা বেশ কষ্টকর। কেননা বরাক উপত্যকা থেকে যোরহাটে পৌঁছাতে গেলে ২৪ ঘন্টারও বেশি সময় লাগে। তাছাড়া যোরহাট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের অভাবে বরাক উপত্যকার কারিগররা বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং প্রদর্শনী, কারুশিল্প বাজার ইত্যাদিতে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। তাই বরাক উপত্যকায় একটি বিপণন ও পরিষেবা কেন্দ্র স্থাপন হলে কারিগরদের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত নকশা, বিপণন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা প্রদানে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। সরকারের ভিশন ফর বিকসিত ভারত, আত্মনির্ভর ভারত এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের কেন্দ্রীভূত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তাই বরাক উপত্যকায় হস্তশিল্প উন্নয়ন কমিশনারের মার্কেটিং এবং সার্ভিস সেন্টার স্থাপনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান সাংসদ।



