মরিগাঁওয়ের প্রগতিশীল মাশরুম চাষী জোনমণি দেবীর পুরস্কার লাভ

বরাক তরঙ্গ, ১০ জানুয়ারি : বিগত কয়েক বছর ধরে মাশরুম চাষের পাশাপাশি মাশরুমের মূল্য সংযোজন করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যের জন্য আদর্শ হয়ে ওঠা মরিগাঁও জেলার বৃহত্তর চরাইবাহী অঞ্চলের জোনমনি দেবী ২০২৬ সালের অসমের শ্রেষ্ঠ মাশরুম উৎপাদকের পুরস্কার পেতে সক্ষম হন। ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ষষ্ঠ মণ্ডল কাঁহিকুছি, গুয়াহাটি, অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যোরহাটের কৃষি শিক্ষা সম্প্রসারণ বিভাগ, শিবসাগর জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং সারা অসম মাশরুম উৎপাদক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে যোরহাটস্থিত অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষা সম্প্রসারণ বিভাগের চত্বরে শুক্রবারে অনুষ্ঠিত সপ্তম অসম মাশরুম দিবসে মহিলা কৃষক জোনমনি দেবীকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।

দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে অনুষ্ঠানটি বিকাল ২টা থেকে শুরু হওয়া মুক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যোরহাটের উপাচার্য ড⁰ বিদ্যুৎ চন্দ্র ডেকা। বিশিষ্ট অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যোরহাটের কৃষি শিক্ষা সম্প্রসারণ বিভাগের পরিচালক ড. মনোরঞ্জন নেওগ, নির্দিষ্ট বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমন্বিত কৃষি ব্যবসায়ী সংস্থা গুয়াহাটির কার্যনির্বাহী পরিচালক ড. ধীরেন্দ্রনাথ কলিতা, অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানগুরু ড. প্রসন্ন পাঠক, গোলাঘাট কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান ড. মধুস্মিতা কটকি, শিবসাগর জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ড. অরুন্ধতী বরদলৈ, সারা অসম মাশরুম সংস্থার সভাপতি চন্দ্র বে এবং সম্পাদক অমর প্রাণ চাংমাইসহ বহু কৃষি বিজ্ঞানী উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে মরিগাঁও জেলার বৃহত্তর চরাইবাহী অঞ্চলের মহাবাহু এগ্রো এফপিসির অন্যতম পরিচালিকা তথা প্রগতিশীল মাশরুম চাষী জোনমণি দেবীকে অসমের শ্রেষ্ঠ মাশরুম উৎপাদক চাষীর সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই সম্মাননা স্বরূপ একটি স্মারক, একটি সম্মাননা পত্র এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, জোনমণি দেবী ২০২২ সালে মহাবাহুর মাধ্যমে মরিগাঁও জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজে মাশরুম চাষ করে বর্তমানে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি প্রায় শতাধিক মহিলাকে মাশরুম উৎপাদনের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন। এছাড়াও জোনমণি দেবী বর্তমানে ২০০০ সিলিন্ডারে মাশরুম উৎপাদনের পাশাপাশি মাশরুমের মূল্য সংযোজন করে মাশরুমের আচার, মাশরুমের বিস্কুট, মাশরুমের পাপড়, মাশরুমের কেক, মাশরুমের দই এবং মাশরুমের প্রোটিন পাউডার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *