এক রাতেই ইরানকে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব : হুঙ্কার ট্রাম্পের

Spread the news

৭ এপ্রিল : মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে ইরানকে ফের সরাসরি হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আমেরিকা চাইলে মাত্র এক রাতেই সমগ্র ইরানকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার (পূর্বাঞ্চলীয় সময়) মধ্যে তেহরান নতিস্বীকার না করলে এক বিধ্বংসী আক্রমণের মুখে পড়বে দেশটি

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার হবে ইরানের ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতু ধ্বংসের দিন।’ তিনি জানান, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অবিলম্বে খুলে না দিলে এবং চুক্তিতে না এলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘হরমুজ প্রণালী খুলে দাও… না হলে তোমরা নরক দেখবে।’ এমনকি তিনি এও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের চেয়েও ভয়াবহ কিছু পরিকল্পনা তাঁর কাছে রয়েছে।

চলমান উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প সেই প্রস্তাবকে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তা ‘যথেষ্ট নয়’। তাঁর দাবি, কোনও যুদ্ধবিরতি হবে কি না, তা নির্ধারণ করার একমাত্র ক্ষমতা তাঁরই রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানও এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সাধারণ মানুষ বর্তমান প্রশাসনের ওপর বীতশ্রদ্ধ। তাঁর মতে, ইরানিরা আসলে বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে চায়, কারণ তাঁরা মনে করে এর মাধ্যমেই তাঁরা বর্তমান শাসন থেকে মুক্তি পাবে। ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, ইরানিদের হাতে অস্ত্র থাকলে তাঁরা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। পাশাপাশি ইরানের তেলের খনিগুলো দখলের সুপ্ত ইচ্ছার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, যদিও মার্কিন জনমত এ বিষয়ে কী ভাবছে তা নিয়ে তিনি কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি ইরানে আটকে পড়া এক মার্কিন বিমান সেনাকে উদ্ধারের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প জানান, আমেরিকার প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষায় তিনি যেকোনও পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই কড়া বার্তার পর গোটা বিশ্বে এখন আশঙ্কার মেঘ জমেছে—মঙ্গলবার রাত কি সত্যিই এক ভয়াবহ যুদ্ধের সাক্ষী হতে চলেছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *