হাইলাকান্দির ১৭টি চা-বাগানের ১৩৪২৯টি পরিবারকে পাট্টা আবেদনপত্র  প্রদান

বরাক তরঙ্গ, ৯ ফেব্রুয়ারি : হাইলাকান্দি জেলার ১৭টি চা-বাগানের মোট ১৩৪২৯টি শ্রমিক পরিবারের মধ্যে লেবার লাইনের জমি বন্দোবস্তের আবেদনপত্র (ফর্ম) বিতরণ কর্মসূচি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলার প্রতিটি চা বাগানে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ব্যাপক জনসমাগম।

এদিন ফর্ম বিতরণ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ভাষণ লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে বাগানগুলিতে সম্প্রচার করা হয়। শ্রমিক পরিবারগুলোর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার জন্য ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় জেলার আয়নারখাল, বন্দুকমারা, বার্নিব্রিজ, চন্ডিপুর, কাটলিছড়া, ধলাই, কৈয়া, কাঞ্চনপুর, লালছড়া, লালামুখ, মনিপুর, নরসিংপুর, রূপাছড়া, শিরিশপুর, সাউথ কাছাড়, সুলতানছড়া এবং বার্নারপুর চা-বাগানে একযোগে ফর্ম বিতরণ করা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি চা বাগানের অনুষ্ঠানের দায়িত্বে পর্যাপ্ত স্টাফসহ একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছিল, যাতে ফর্ম বিতরণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা যায়। প্রশাসনের এই সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ফলে কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি এবং শ্রমিকরা সুশৃঙ্খলভাবে ফর্ম গ্রহণ করেন। এছাড়া কর্মসূচির সার্বিক তদারকির জন্য দুই অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত—সপ্ততি এন্দ এবং ভেনলাল লেম্পুই বিভিন্ন চা বাগানে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করেন এবং ব্যবস্থাপনার খোঁজখবর নেন। তাঁদের উপস্থিতি কর্মসূচিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে তোলে বলে জানা গেছে।

প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, বহু দশক ধরে চা বাগানের লেবার লাইনে বসবাসকারী শ্রমিক পরিবারগুলি আইনগত ভূমি অধিকারের অভাবে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছিলেন। বসতভিটায় বৈধ অধিকার না থাকায় কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে মিশন বসুন্ধরার অধীনে চা বাগান শ্রমিকদের ভূমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়াকে দীর্ঘদিনের এক গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণের পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের মতে, এই ভূমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো যোগ্য শ্রমিক পরিবারসমূহকে তাদের বসতভিটায় আইনগত অধিকার ও স্থায়িত্ব প্রদান করা, যাতে তাঁরা আইনের অধীনে সুরক্ষা লাভ করেন এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফর্ম সংগ্রহকারী যোগ্য শ্রমিক পরিবারগুলোর আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *