২৩ মার্চ : বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এবার বেনজির পদক্ষেপ নিল ইরান। আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের আবহে এবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী নির্দিষ্ট কিছু জাহাজের ওপর ২ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮.৮ কোটি টাকা) ট্রানজিট ফি (Transit Fee Iran )চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। গত কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম এই জলপথে ইরানের এমন ‘সার্বভৌম শাসন’ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন সে দেশের সংসদীয় কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বোরুজেরদি সাফ জানিয়েছেন, “যুদ্ধের নিজস্ব খরচ আছে, তাই হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলি থেকে ট্রানজিট ফি নেওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক।” তাঁর দাবি, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় আসলে বিশ্বমঞ্চে ইরানের শক্তি এবং কর্তৃত্বের বহিঃপ্রকাশ। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শত্রু দেশ ছাড়া বাকিদের জন্য এই পথ খোলা থাকলেও, যাতায়াতের জন্য এখন থেকে মোটা অঙ্কের মাশুল গুনতে হবে।
গত সপ্তাহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় হামলা চালাবে আমেরিকা। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা ছিল, “ইরান কথা না শুনলে আমরা ওদের পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো ধ্বংস করে দেব।”
ট্রাম্পের এই হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও। বোরুজেরদি জানিয়েছেন, আমেরিকার কোনো পদক্ষেপের পাল্টা হিসেবে এক দিনেই ইজরায়েলের জ্বালানি পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ইরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, “ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার অলীক কল্পনা একটি ইতিহাস সৃষ্টিকারী জাতির ইচ্ছাশক্তির কাছে পরাজয়ের লক্ষণ। যারা আমাদের মাটি লঙ্ঘন করবে, তারা ছাড়া বাকি সবার জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা।” পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেছেন, আমেরিকা যদি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ করে দেওয়া হবে।
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের এই কড়া নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজগুলোর ওপর হামলা ও আকাশছোঁয়া ফি আদায়ের ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু ট্যাঙ্কার এই পথে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
খবর : উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।




