ইজরায়েল-মার্কিন ঘাঁটিতে ২২তম দফায় মিসাইল হামলায় ইরানের বড় সাফল্য

Spread the news

৭ মার্চ : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনার শিখরে পৌঁছেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর আওতায় এক বিশাল ও সফল মিসাইল হামলা পরিচালনা করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে এটি নতুন প্রজন্মের ব্যালেস্টিক মিসাইল ব্যবহারের মাধ্যমে মার্কিন ও ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই ও চ্যালেঞ্জ করার একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে ‘ইয়া হুসাইন বিন আলি (আ.)’ নামক বিশেষ সাংকেতিক কোড ব্যবহারের মাধ্যমে এই ২২তম ধাপের মিসাইল হামলাটি শুরু করা হয়। ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বিপুল সংখ্যক শিশু নিহতের প্রতিশোধ নিতেই এই ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে তেহরান। মূলত পারস্য উপসাগর থেকে শুরু করে ইসরায়েলের প্রাণকেন্দ্র তেল আবিব পর্যন্ত শত্রুপক্ষের বিভিন্ন সামরিক অবস্থানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযানে খাইবার, খোররমশাহর-৪ এবং ফাত্তাহ মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে তেল আবিব পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি সেনা ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশেষ করে তেল আবিব, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর, হাইফা সামরিক কেন্দ্র এবং পারস্য উপসাগরের দেশগুলিতে হামলা চালানো হয়েছে।

এই অভিযানে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইলের পাশাপাশি সুপার-হেভি খোররমশাহর-৪ মিসাইল ব্যবহৃত হয়েছে, যার ওয়ারহেড ২ টনের এবং গতি ১৪ ম্যাকের বেশি। আইআরজিসি জানিয়েছে, যুদ্ধের সপ্তম দিনে তাদের স্থিতিশীল মিসাইল ঘাঁটি থেকে এই হামলা সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের প্রচারমাধ্যমের দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে, যা ইরানের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা কমে যাওয়া বা মিসাইল-ড্রোন হামলার গতি কমে যাওয়া সংক্রান্ত ছিল।

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নায়েনি বলেছেন, “আমরা দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আগ্রাসীদের শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে। শত্রুরা প্রতিটি তরঙ্গে কঠিন আঘাত পাবে। ইরানের নতুন অস্ত্র ও উদ্যোগ এখনও বড় আকারে ব্যবহার করা হয়নি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *