৯ এপ্রিল : মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান । বুধবার লেবাননে হেজবোল্লার ঘাঁটিগুলোতে মাত্র কয়েক মিনিটে ১০০টি বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৮০০-র বেশি মানুষ। ফলে এটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ইরান।
ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, বেইরুট, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননে হেজবোল্লার ১০০টি কমান্ড সেন্টার ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই ‘বৃহত্তম সমন্বিত অভিযান’ চালানো হয়েছে। যদিও লেবানন সরকারের অভিযোগ, অধিকাংশ হামলাই হয়েছে জনবহুল এলাকায়। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আগেই সাফ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হলেও লেবানন বা হেজবোল্লা এই আওতায় নেই। ট্রাম্প প্রশাসনও এই অবস্থানকে সমর্থন করে একে একটি ‘আলাদা সংঘর্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
লেবাননের ওপর এই হামলার পালটা জবাব দিতে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট ব্যবহৃত খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই কড়া ভাষায় বলেছেন, ‘লেবাননে এই বর্বর আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনই বন্ধ করতে হবে। লেবাননের জনগণ আমাদের জন্য তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছে। তাই আমরা এক মুহূর্তের জন্যও তাঁদের একা ছেড়ে দিতে পারি না। যুদ্ধবিরতি হলে সব ফ্রন্টেই হবে, নয়তো কোথাও নয়।’ এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এবং দাম নিয়ে বড়সড়ো সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আগামী ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতি তাকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইজরায়েল যদি হেজবোল্লা বা ইরান-পন্থী মিলিশিয়াদের ওপর হামলা বন্ধ না করে, তবে তারা জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরাবে না। হোয়াইট হাউস অবিলম্বে এই নৌপথ খুলে দেওয়ার দাবি জানালেও ইরান তার অবস্থানে অনড়।
গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইজরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫০০ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের ছায়া দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। ১১ এপ্রিলের ইসলামাবাদ বৈঠক এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।



