জ্বালানির জোগানে ভারতের রক্ষাকবচ পুতিন! সংকটে নয়াদিল্লিকে অভয় দিয়ে বড় বার্তা মস্কোর

Spread the news

৪ মার্চ : পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) ইরান জাহাজ চলাচল বন্ধ করার পর যখন তেলের সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময়েই ভারতের সাহায্যে এগিয়ে এল দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়া (India-Russia)। সূত্রের খবর, উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে ভারতকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি দিয়ে (Gulf Crisis) সাহায্য করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে মস্কো।

ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানির প্রায় অর্ধেক অংশই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইজরায়েলি হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধের মতো ইরানের কড়া পদক্ষেপ এবং বিমা সংস্থাগুলির ট্যাঙ্কার পরিষেবা থেকে পিছু হটার ফলে এই বাণিজ্য পথটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সংকটকালীন মুহূর্তে রাশিয়ার এই প্রস্তাব ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, যেকোনও স্বল্পমেয়াদী ধাক্কা সামলানোর মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি ভাণ্ডার বর্তমানে দেশের হাতে রয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, ভারত বর্তমানে সব ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সক্ষম। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, দেশের হাতে বর্তমানে মোট ৫০ দিনের জ্বালানি মজুত আছে, যার মধ্যে ২৫ দিনের অপরিশোধিত তেল এবং আরও ২৫ দিনের পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের চাহিদা মেটানোর জন্য ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের বাড়তি বাফার স্টক রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যে একটি ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে, যা সারা দেশে তেলের মজুত ও সরবরাহের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প দেশগুলি থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির চেষ্টাও শুরু করেছে নয়াদিল্লি।

তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলে ৮০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভারতের আমদানি বিল ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (AAI) দেশের ৩৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে তাদের আগামী সাত দিনের জ্বালানি মজুত ও ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। যদিও বর্তমান মজুত পরিস্থিতিকে ‘যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক’ বলে বর্ণনা করেছে সরকার, তবুও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
খবর : উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *