ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত

Spread the news

৫ মার্চ : সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিল টিম ইন্ডিয়া। ফাইনালের মহারণে প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠায় ইংল্যান্ড। বড় ম্যাচে এটা কতটা সঠিক সিদ্ধান্ত সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। প্রথম ওভারে ১২ রান। আর্চারের বলে পরপর চার এবং ছয় মারেন সঞ্জু। অভিষেক শর্মার দুর্বলতার ফায়দা তুলতে দ্বিতীয় ওভারেই উইল জ্যাকসকে আনেন ব্রুক। সুপারহিট স্ট্র্যাটেজি। প্রথম বলে চার মেরে জ্যাকসকে আহ্বান জানান। পঞ্চম বলে আবার চার। কিন্তু শেষপর্যন্ত ইংল্যান্ডের বোলারের ফাঁদে পা দেন অভিষেক। আবার অফস্পিনের কাছে আত্মসমর্পণ। আরও একটি ব্যর্থতা। ৭ বলে ৯ রান করে আউট হন। ২.২ ওভারে সঞ্জুর ক্যাচ ফেলেন হ্যারি ব্রুক। আর্চারের বলে মিড অনে ক্যাচ দেন। কিন্তু ফস্কান ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। এটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। পাওয়ার প্লের শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ভারতের রান ছিল ৬৭।

২৬ বলে অর্ধশতরানে পৌঁছে যান সঞ্জু। ইনিংসে ছিল ৩টি ছয়, ৭টি চার। নবম ওভারে একশো রানের গণ্ডি পার করে ভারত। মারকুটে ইনিংস ঈশান কিষাণ এবং শিবম দুবের।‌ দ্বিতীয় উইকেটে ৯৭ রান যোগ করেন সঞ্জু এবং ঈশান। ১৮ বলে ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে আউট হন বাঁ হাতি উইকেটকিপার ব্যাটার। ২৫ বলে ৪৩ করে রান আউট হন দুবে। কম বলে গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন হার্দিক পাণ্ডিয়া (২৭) এবং তিলক বর্মা (২১)। ১৭তম ওভারে ২০০ রানের গণ্ডি পার করে ভারত। ১৪ রানে হার্দিকের ক্যাচ ফেলেন টম ব্যান্টন। আর্চারের শেষ ওভারে তিলকের ছক্কার হ্যাটট্রিক। মাঠের চারদিকে। শেষপর্যন্ত বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে আড়াইশো রানের গণ্ডি পার করে ভারত।

১০ বছর আগে ২০১৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২২৯ রান তাড়া করে জিতেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু এইসব জয় একবারই আসে। আড়াইশো রানের বেশি তাড়া করে জেতা এককথায় অসম্ভব। তবে দুর্দান্ত লড়াই ব্রিটিশদের। বিশেষ করে জেকব বেথেলের। একাই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু অন্যদিকে পরপর উইকেট হারাতে থাকে ইংল্যান্ড। ২৫৩ রান তাড়া করতে নেমে ঝড়ের গতিতে শুরু করা ছাড়া উপায় ছিল না ব্রেন্ডন ম্যাকালামের দলের কাছে। ওয়াংখেড়ের পিচ মূলত ব্যাটিং সহায়ক। বোলাররা খুব বেশি সাহায্য পায় না। কিন্তু তাসত্ত্বেও ভারতীয় বোলারদের পারফরম্যান্স ফাইনালের আগে কপালে ভাঁজ ফেলবে গৌতম গম্ভীরের। বিশেষ করে স্পিনারদের পারফরম্যান্স। জস বাটলারের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিলেও ৪ ওভারে ৬৪ রান দেন বরুণ চক্রবর্তী। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ফেরেন ফিল সল্ট (৫)। ব্যর্থ হ্যারি ব্রুকও (৭)। শুরুটা ভাল করেন জস বাটলার। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। ১৭ বলে ২৫ রান করে বরুণের বলে বোল্ড হন। চার নম্বরে নেমে একাই ইংল্যান্ডকে লড়াইয়ে রাখেন বেথেল।‌ তাঁকে কিছুটা সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন উইল জ্যাকস।‌ কিন্তু বাউন্ডারি লাইনে দুর্ধর্ষ ক্যাচ নিয়ে ছন্দে থাকা ইংলিশ ক্রিকেটারকে ফেরত পাঠান অক্ষর প্যাটেল। ২০ বলে ৩৫ রান করে আউট হন জ্যাকস।‌ নিয়মিত উইকেট হারালেও রানরেট ঠিক রাখে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা। ৮ ওভারে একশো রান পার করে ইংল্যান্ড। ১০ ওভারের শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ডের রান ছিল ১১৯। শেষ দুই ওভারে ৩৯ রান প্রয়োজন ছিল। দুর্দান্ত ১৯তম ওভার হার্দিকের। চাপের মধ্যে মাত্র ৯ রান দিয়ে ১ উইকেট তুলে নেন। এটাই পার্থক্য গড়ে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *