৯ মার্চ : পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন ভারতের পক্ষ থেকে নেওয়া হল এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। সোমবার সংসদের উভয় কক্ষে দাঁড়িয়ে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর (S Jaishankar) জানালেন, ১ মার্চ ভারতের তরফে ইরানের তিনটি জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে (India allows Iranian ships)। এর মধ্যে একটি জাহাজ বর্তমানে কেরলের কোচি বন্দরে রয়েছে। বিরোধীদের হট্টগোলের মাঝেই বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন, তেলের দাম বা ভূ-রাজনীতি যাই হোক না কেন, ভারত সবসময় ‘জাতীয় স্বার্থ’কেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।
জয়শঙ্কর জানান, ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইআরআইএস লাভান’ (IRIS Lavan)-কে কোচি বন্দরে আশ্রয় দেওয়ায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। জয়শঙ্কর ও আরাঘচির মধ্যে দীর্ঘ ফোনালাপও হয়েছে। তবে বিদেশমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ বজায় রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজ্যসভায় জয়শঙ্করের বক্তৃতা চলাকালীনই কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার দাবিতে সরব হয় এবং একসময় কক্ষত্যাগ করে। লোকসভাতেও একই ইস্যু নিয়ে হট্টগোল হওয়ায় অধিবেশন দুপুর ৩টে পর্যন্ত মুলতুবি করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রাশিয়ার তেলের বিষয়ে ভারতকে ৩০ দিনের ছাড় দেওয়ার কথা জানালেও, বিরোধীরা প্রশ্ন তোলেন—নয়াদিল্লি কি তবে মার্কিন কথাতেই চলবে? জবাবে জয়শঙ্কর সাফ জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে জোগান, ঝুঁকি এবং খরচ—সবদিক বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেবে ভারত সরকার।
জয়শঙ্কর এদিন পুনর্ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। পশ্চিম এশিয়ায় আটকে পড়া কয়েক হাজার ভারতীয়র নিরাপত্তা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর জন্য সবরকম কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যুদ্ধের সমাধান হিসেবে ভারত পুনরায় ‘আলোচনা ও কূটনীতি’র পথকেই সমর্থনের ডাক দিয়েছে।
খবর : উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।



