মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৯ জানুয়ারি : প্রীতিময় পরিবেশ ও উৎসবমুখর আবহে সীমান্ত চেতনা মঞ্চ পূর্বোত্তরের উদ্যোগে দক্ষিণ শ্রীভূমি জেলার ক্রীড়া মহোৎসবের চূড়ান্ত পর্বের বাছাই প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন হল পাথারকান্দিতে। দিনভরব্যাপী নানা ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে গতকাল এই বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আগত প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করেন।
পাথারকান্দি ব্লক সংলগ্ন আঞ্চলিক পঞ্চায়েত হাইস্কুলের খেলার মাঠে সকাল সাড়ে ন’টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রীড়া মহোৎসবের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভারতমাতার প্রতিকৃতির সম্মুখে প্রদীপ প্রজ্বলন করেন বিএসএফ-এর ডেপুটি কমান্ডেন্ট এসপি সিং। এরপর সীমান্ত ক্রীড়া মহোৎসবের অভ্যর্থনা সমিতি দক্ষিণ শ্রীভূমি জেলার সভাপতি সুরজিৎ ভৌমিক সংস্থার পতাকা উত্তোলন করেন। দেশাত্মবোধক পরিবেশে সংস্থার সমবেত প্রার্থনা সঙ্গীত পরিবেশন করেন পূজা ভট্টাচার্য, যা উপস্থিত সকলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। এরপর শুরু হয় প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া আসর। স্কুলের সুবিশাল খেলার মাঠে পৃথক পৃথকভাবে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী সাব-জুনিয়র এবং ১৭ থেকে ২০ বছর বয়সী জুনিয়র বিভাগের ছেলে ও মেয়েদের জন্য বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, শটপুট, জ্যাভেলিন থ্রো, ডিসকাস থ্রো, ত্রিপল জাম্প ও রিলে রেস—প্রতিটি বিভাগেই খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও শারীরিক সক্ষমতার চমৎকার প্রদর্শন দেখা যায়। মাঠজুড়ে খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ এবং দর্শকদের উৎসাহব্যঞ্জক সমর্থনে এক প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দক্ষিণ শ্রীভূমি জেলা পর্যায়ের এই বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ খেলোয়াড়রা আগামী ২০, ২১ ও ২২ মার্চ গৌহাটির ঐতিহ্যবাহী সরুসজাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাজ্য পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত খেলোয়াড়রা রাজ্যস্তরে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও পেতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।উল্লেখ্য, সীমান্ত চেতনা মঞ্চের এই ক্রীড়া মহোৎসবের মূল উদ্দেশ্য হল আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন প্রত্যন্ত গ্রামগুলো থেকে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা এবং তাঁদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দিয়ে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে তুলে আনা। পাশাপাশি যুব সমাজকে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।সর্বোপরি, পাথারকান্দিতে অনুষ্ঠিত এই ক্রীড়া মহোৎসবের বাছাই পর্ব শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতাই নয়, বরং সীমান্ত এলাকার তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নপূরণের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



