পাথারকান্দিতে নবদম্পতির হাতে হাতে অতিথিদের উপহার গাছের চারা, পরিবেশ রক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৪ জানুয়ারি : পরিবেশ রক্ষা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিনই দূষণ, বৃক্ষনিধন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচির খবর উঠে আসে। তবে সেই বার্তা যদি ছড়িয়ে পড়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো ব্যক্তিগত ও আবেগঘন মুহূর্ত থেকে তবে তা নিঃসন্দেহে সমাজের কাছে এক শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে ওঠে। ঠিক তেমনই এক অনন্য ও অভিনব উদ্যোগের সাক্ষী থাকল শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দি। রবিবার পাথারকান্দি ডাকবাংলো সংলগ্ন একটি অভিজাত বিবাহ ভবনে আয়োজিত এক বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিবেশ সচেতনতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। পাথারকান্দির প্রাক্তন বিধায়ক প্রয়াত মঈন উদ্দিনের সুপুত্র, বিশিষ্ট শিক্ষক ও সমাজসেবী এ এস হোসেন আহমদের কনিষ্ঠ কন্যার বিবাহ অনুষ্ঠান ঘিরেই উঠে আসে এই ব্যতিক্রমী ভাবনা।

বিয়ের অনুষ্ঠান মানেই আলো-ঝলমল আয়োজন, খাওয়া-দাওয়া ও সামাজিকতা। কিন্তু এই বিয়েতে ছিল তার চেয়েও গভীর একটি বার্তা পরিবেশ বাঁচানোর অঙ্গীকার। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা যখন বিদায়ের পথে, ঠিক সেই মুহূর্তে নবদম্পতির হাত দিয়ে একে একে তুলে দেওয়া হয় একটি করে মূল্যবান গাছের চারা। কোনো স্মারক বা সামগ্রী নয় এই চারাই হয়ে ওঠে বিয়ের উপহার, স্মৃতি ও দায়বদ্ধতার প্রতীক।

এই প্রসঙ্গে এ এস হোসেন আহমদ বলেন, মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতি থেকে নেয়বাতাস, জল, খাদ্য, আশ্রয় কিন্তু প্রকৃতিকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা খুব কমই ভাবে। মেয়ের বিয়ের মতো একটি পবিত্র ও আনন্দঘন দিনে আমরা চেয়েছি এই বার্তাটুকু পৌঁছে দিতে। প্রত্যেক অতিথির হাতে একটি করে চারা তুলে দিয়ে আমরা অনুরোধ জানিয়েছি, তাঁরা যেন নিজ নিজ জায়গায় তা রোপণ করেন। হয়তো সংখ্যায় খুব বেশি নয়, কিন্তু মানসিকতায় এটি এক বড় পদক্ষেপ। নবদম্পতির কণ্ঠেও শোনা যায় পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা। তাঁদের মতে,এই চারাগাছগুলো আমাদের বিয়ের স্মৃতি হিসেবে বড় হয়ে উঠবে। প্রতিটি গাছের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে এই বিশেষ দিনের অনুভূতি। গাছ ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব কল্পনাই করা যায় না। আমরা আশা করি, আমাদের এই ছোট উদ্যোগ আগামী দিনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অন্তত কিছুটা হলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে অভিভূত হন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরাও। অনেকের কথায়,নেমতন্ন খেতে এসে উপহার দেওয়া এটাই আমরা জানি। কিন্তু এমন একটি অর্থবহ উপহার যে ফিরে পাওয়া যায়, তা সত্যিই ভাবা যায় না। এই উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।স্থানীয় মহলের মতে, বিয়ে, জন্মদিন কিংবা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো যদি এইভাবেই পরিবেশবান্ধব বার্তা বহন করে, তবে সবুজায়নের আন্দোলন আরও গতি পাবে।পাথারকান্দির এই বিয়ের অনুষ্ঠান শুধু দুটি মানুষের জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা নয়, বরং পরিবেশ রক্ষার পথে সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার এক নীরব কিন্তু শক্তিশালী বার্তা।

বিয়ের খাওয়া-দাওয়ার পর অতিথিরা যখন বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের অবতারণা হয়। নবদম্পতি নিজ হাতে একে একে অতিথিদের তুলে দেন একটি করে মূল্যবান গাছের চারা। কোনো সাধারণ সৌজন্য উপহার নয় এই চারা যেন হয়ে ওঠে সবুজ ভবিষ্যতের প্রতীক এবং বিয়ের স্মৃতির জীবন্ত চিহ্ন।এই প্রসঙ্গে এ এস হোসেন আহমদ বলেন,আমরা প্রতিনিয়ত পরিবেশের কাছ থেকে অকুণ্ঠভাবে গ্রহণ করি বাতাস, জল, খাদ্য, আশ্রয় কিন্তু পরিবেশকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা খুব কমই ভাবি। তাই মেয়ের বিয়ের মতো একটি পবিত্র ও স্মরণীয় দিনে যদি কিছুটা হলেও পরিবেশের জন্য করা যায়, সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ। আমরা প্রত্যেক অতিথির কাছে অনুরোধ জানিয়েছি, যেন তাঁরা এই চারাগুলি নিজের হাতে রোপণ করেন। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সামান্য হলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমাদের বিশ্বাস।”

নবদম্পতির কথাতেও উঠে আসে একই অনুভূতি। তাঁদের বক্তব্য,এই চারাগাছগুলো আমাদের বিয়ের স্মৃতি হিসেবে বড় হয়ে উঠবে। গাছ ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। যদি আমাদের এই ছোট্ট উদ্যোগ আগামী দিনে মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় আরও সচেতন করে তোলে, তবেই আমাদের এই আয়োজন সার্থক হবে। অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত বহু অতিথির কাছেও এই উদ্যোগ ছিল সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। একাংশ আমন্ত্রিতের কথায়,
“নেমতন্ন খেতে গিয়ে সাধারণত উপহার দিতে হয় এটাই আমরা জানি। কিন্তু এমন অভিনব ও অর্থবহ উপহার যে ফিরে পাওয়া যায়, তা আগে কখনও দেখা বা শোনা হয়নি। এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষার এই বার্তা নিঃসন্দেহে সমাজের অন্যান্য স্তরেও অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাথারকান্দিতে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী বিয়ের অনুষ্ঠান প্রমাণ করে দিল উৎসব ও সচেতনতা একসঙ্গেই সম্ভব, যদি থাকে সদিচ্ছা ও দূরদর্শী ভাবনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *