মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১ এপ্রিল : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পাথারকান্দিতে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। তবে এবারের নির্বাচনে প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণের বাইরে উঠে এসেছে এক ব্যতিক্রমী চিত্র—একই পরিবারের ‘দাদু’ ও ‘নাতি’ ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে থেকে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছেন। এই বিরল সমীকরণ ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।
পাথারকান্দির চারবারের প্রাক্তন বিধায়ক মনিলাল গোয়ালা এবার নিজে প্রার্থী না হলেও কংগ্রেস প্রার্থী কার্তিক সেনা সিনহার পক্ষে স্টার প্রচারক হিসেবে সক্রিয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী জনসংযোগ এবং পুরনো সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে ঝড় তুলেছেন। তাঁর উপস্থিতিতে কংগ্রেস শিবিরে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, তাঁরই নাতি বিশ্বজিৎ গোয়ালা বিজেপির হয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। দলীয় কর্মসূচি, র্যালি, বুথভিত্তিক সংগঠন ও সভায় তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছে। বিশেষ করে যুব ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একদিকে অভিজ্ঞতার প্রতীক দাদু, অন্যদিকে, উদ্যমী তরুণ নাতি—এই দ্বৈরথ পাথারকান্দির নির্বাচনী লড়াইকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। সর্বত্র এখন ‘দাদু বনাম নাতি’ প্রসঙ্গেই চর্চা চলছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু ভোটের লড়াই নয়; বরং প্রজন্মগত ভাবনা, আদর্শ এবং পারিবারিক সম্পর্কের এক বিরল প্রতিফলন। দিনভর ভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে লড়াই চললেও দিনশেষে একই পরিবারের ছাদের নিচে তাঁদের সহাবস্থান সাধারণ মানুষের কাছে এক ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে—রাজনীতি আলাদা, পরিবার আলাদা। সব মিলিয়ে, পাথারকান্দির এবারের নির্বাচন আবেগ, আদর্শ ও প্রজন্মগত পরিবর্তনের এক অনন্য মেলবন্ধন হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, এই ব্যতিক্রমী ‘দাদু-নাতি’ সমীকরণ শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে কী প্রভাব ফেলে।



