২০ জানুয়ারি : গ্রিনল্যান্ড দখলের জেদ এবার এক ভয়ংকর ভূ-রাজনৈতিক সংকটের রূপ নিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার পর তিনি আর কেবল ‘শান্তি’ নিয়ে ভাবার বাধ্যবাধকতা অনুভব করছেন না। গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তরে বাধা দিলে ইউরোপের একাধিক দেশের ওপর চরম শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি, যা কার্যত আটলান্টিকের দুই পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে এক নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গহর স্টোরকে লেখা একটি বার্তায় ট্রাম্প তাঁর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, আটটি যুদ্ধ থামানো সত্ত্বেও ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁকে না দিয়ে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোকে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের সাফ কথা, “যেহেতু আপনার দেশ আমাকে নোবেল দেয়নি, তাই আমি আর কেবল শান্তির কথা ভাবতে বাধ্য নই। এখন আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ অনুযায়ী কাজ করব।”
ট্রাম্পের দাবি, ডেনমার্কের হাতে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা থাকা নিরাপদ নয়, কারণ তারা একে রাশিয়া বা চিনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এবং ব্রিটেনের মতো দেশগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের এই একতরফা হুমকির মুখে চুপ করে নেই ইউরোপীয় ইউনিয়নও। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ জানিয়েছেন, অযৌক্তিক শুল্ক আরোপ করা হলে ইউরোপও পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে একটি জরুরি সম্মেলনে বসছেন ইইউ নেতারা, যেখানে ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর মার্কিন আমদানির ওপর শুল্ক বসানো বা ‘অ্যান্টি-কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট’ (ACI) ব্যবহারের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।



