পর পর দু’টি কন্যাসন্তান জন্ম হওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন, রহস্যজনক মৃত্যু, আটক স্বামী

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৭ মার্চ : কাছাড় জেলার কাটিগড়া এলাকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী লেভারপুতা গ্রামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। মৃতের বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, পরপর দু’টি কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী প্রথমে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে দ্রুত শাবানার নিথর দেহ কালাইন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং গৃহবধূর স্বামী মেহবুব আলমকে আটক করে।

গৃহবধূর পরিবারের দাবি, শাবানা কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার পর থেকেই স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়মিত নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশি সভাও বসে। প্রায় দু’মাস আগে দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্মের পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। অভিযোগ, মেহবুব ইচ্ছাকৃতভাবে শাবানার সঙ্গে তার বাপের বাড়ির যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গভীর রাতে এক প্রতিবেশীর ফোনে তারা শাবানার মৃত্যুর খবর পান। পরে কালাইনে থাকস এক আত্মীয় হাসপাতালে পৌঁছালেও সেখানে মৃতদেহ খুঁজে পাননি। পরে জানতে পারেন দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাদের দাবি, মৃতদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে, হাসপাতালে মেহবুবের সঙ্গে আরও কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত থাকলেও পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত করেছে। পুলিশ অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *