১৩ মার্চ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ইরানে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান এখন এক ভয়াবহ বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক রুট এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের ওলটপালট শুরু হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, হোয়াইট হাউস এই যুদ্ধের ভয়াবহতা যতটা অনুমান করেছিল, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে।
যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা মন্দার সাথে মুদ্রাস্ফীতির এক ভয়াবহ সংমিশ্রণ দেখা দিতে পারে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল এই অভিযান হবে স্বল্পমেয়াদী ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কেন্দ্রিক, কিন্তু বর্তমানে এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা (Supply Chain) ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে পরিবহন খরচ ও বীমা ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে।
ইরানের ভেতরে মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনেই কয়েক হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী বছরে এই যুদ্ধের ব্যয় এবং তেলের উচ্চমূল্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পেন্টাগন যুদ্ধের যে প্রাথমিক হিসাব করেছিল, গত কয়েক দিনে সেই খরচ ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান সংশ্লিষ্ট এই ‘জুয়া’ বিশ্বকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যা একসময় ‘সীমিত অপারেশন’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, তা এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



